পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার নেওয়া নিয়ে সাময়িক টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস সেটি সম্প্রচার না করলে চলমান লর্ডস টেস্ট এমনকি সিরিজের বাকি অংশ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। এসব ঘটনা নাকি জানতেনই না কোচ সরফরাজ আহমেদ।
লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে স্কাই স্পোর্টস ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান খান ও কাসিম খানের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হলে লর্ডস টেস্ট এবং তিন ম্যাচের সফরের বাকি অংশ বাতিল করার সম্ভাবনার কথা ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) জানিয়েছিল পিসিবি। তবে সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশ ঠিকই সম্প্রচার করে স্কাই। এ ছাড়া বিরতির পর যথারীতি মাঠে নামে পাকিস্তানও।
গতকাল (শুক্রবার) দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান কোচ সরফরাজের কাছে এ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি জানান, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু ম্যাচ নিয়েই মনোযোগ দিচ্ছি। আপনি সাক্ষাৎকারটির কথা বলছেন? আমরা সাক্ষাৎকারটি সম্পর্কে কিছুই জানি না।’
প্রথম দিনের বিকেলের সেশন খেলতে তার খেলোয়াড়রা আদৌ মাঠে ফিরবে কি না, এমন কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘সবাই ঠিক আছে। তখন আমরা মধ্যাহ্নভোজ করছিলাম।’

পাকিস্তানের কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দি কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ইমরান খান। ৭৩ বছর বয়সী এই তারকা দেশের হয়ে ২১ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। ২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় তার সস্ত্রীক কারাদণ্ডও হয়েছে।
এদিকে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একইসঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন। ইমরানপুত্রের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে সরকার বিরোধী অবস্থান বা প্রচারণা হিসেবে বিবেচনা করছিলেন তিনি। যদিও সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারটি আগেই ধারণা করা হয়েছিল লর্ডসের প্যাভিলিয়নে। যেখানে সুলেমান-কাসিম তাদের বাবার সঙ্গে আচরণ এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তারা।
এএইচএস
