৮২ রানে জিততে হতো পাকিস্তানকে, তিনে ব্যাট করে ইতিহাস গড়েন আফ্রিদি

আবারও সমীকরণের বৃত্তে আটকে গেছে পাকিস্তান। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের সেমিফাইনাল খেলা নির্ভর করছে যদি-কিন্তু’র ওপর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সালমান-ফখরদের কেবল জিতলেই হবে না, নেট রানরেটেও নিউজিল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। অন্যথায় সেমিতে উঠবে কিউইরা। ১৯৯৬ সালে এমনই এক সমীকরণের মুখে পড়েছিল পাকিস্তান, বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিতে সেই ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইতিহাসগড়া ইনিংস খেলেন শহীদ আফ্রিদি।
ওই সময় কেনিয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক দলকে নিয়ে চারজাতি টুর্নামেন্টে খেলেছিল পাকিস্তান। ফাইনালে খেলতে হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাঈদ আনোয়ারের দলকে বড় ব্যবধানে জিততে হতো। বলা চলে ৮২ রানে জিতলেই দক্ষিণ আফ্রিকার পর ফাইনালে উঠবে পাকিস্তান। তারা সেই সমীকরণ মিলিয়েছে। আফ্রিদির দ্রুততম সেঞ্চুরিতে ভর করে বরাবর ৮২ রানে জেতে পাকিস্তান। যদিও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ফাইনালে তারা হেরে যায়।
শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচের আগে সমীকরণ ছিল এমন– পাকিস্তান জিতলে লঙ্কানদের সমান ৪ পয়েন্ট পাবে তারা। সে কারণে ফাইনালে কারা খেলবে তা নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয় নেট রানরেট। আগে থেকেই শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৪ ছিল, ফলে এদিন অল্প ব্যবধানে হারলেও তাদের ফাইনাল খেলতে অসুবিধা ছিল না। বিপরীতে পাকিস্তানকে জিততে হতো ৮২ রানে। সমীকরণ কিছুটা লঙ্কানদের অনুকূলে থাকা টস জিতে তারা সাঈদ আনোয়ারের দলকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়।
ওপেনিং জুটিতে ভালো শুরু পেলেও, ৬০ রানে ওপেনার সেলিম এলাহি ফিরলে ক্রিজে আসেন শহীদ আফ্রিদি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও তিন নম্বরে ব্যাট করেননি এই তারকা অলরাউন্ডার। পাকিস্তানের সেই পরিকল্পনা পুরোপুরিভাবেই কাজে লেগেছে। অধিনায়ক সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গে ১২৬ রানের জুটি গড়েন আফ্রিদি। ১২০ বলে ১৩ চার ও এক ছক্কায় ১১৫ রান করেন সাঈদ। অন্যপ্রান্তে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন আফ্রিদি। ওয়ানডেতে তার সেই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড টিকেছিল ১৮ বছর।
৪০ বলে ৬ চার ও ১১ ছক্কায় ১০২ রান করেন আফ্রিদি। এ ছাড়া সেলিম মালিক ৪৩ রান করলে ৫০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ৩৭১ রান। সেই লক্ষ্য তাড়ায় লঙ্কান কিংবদন্তি অরবিন্দ ডি সিলভার ১২২, অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা এবং কুমার ধর্মসেনা হাফসেঞ্চুরি করলেও তাদের ইনিংস ২৮৯ রানে গুটিয়ে যায়। পাকিস্তানের ৮২ রানে জয় ও ফাইনাল নিশ্চিতের পথে ওয়াকার ইউনিস ৫ এবং সাকলাইন মুশতাক ৪ উইকেট শিকার করেন। সেঞ্চুরি করা আফ্রিদিও নেন ১ উইকেট।
প্রসঙ্গত, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সমীকরণের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। কাকতালীয়ভাবে এবারও প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, তাদের বিপক্ষে আজ (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নামবে সালমানের দল। যেখানে জয়ের পাশাপাশি সেমিতে উঠতে পাকিস্তানের সমীকরণ– আগে ব্যাট করে ম্যাচ জিতলে, ব্যবধান ন্যূনতম ৬৪ রানের হতে হবে। আবার, পরে ব্যাট করলে পাকিস্তানকে ১৩.১ ওভারের মধ্যেই জিততে হবে। অন্যথায় পাকিস্তান জিতলেও সমান ৩ পয়েন্ট পাওয়া নিউজিল্যান্ড খেলবে সেমিফাইনাল।
এএইচএস