৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, ভারতের চ্যাম্পিয়ন জম্মু-কাশ্মির

‘এটা আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। আমাদেরকে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ডাকতে প্রায় সাত দশক লাগছে, অবশেষে অপেক্ষার অবসান’— পিটিআই-এ এক কলামে গতকাল (শুক্রবার) লিখেছিলেন ভারতের জার্সিতে খেলা জম্মু-কাশ্মিরের ক্রিকেটার পারভেজ রসুল। আজ (শনিবার) শেষ হলো ৬৭ বছর অপেক্ষার অবসান।
ভারতের শীর্ষ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রঞ্জি ট্রফিতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জম্মু-কাশ্মির। ফাইনালে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের লিড নেওয়ার পর কর্ণাটকের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে শিরোপা জিতেছে তারা।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফিতে খেলা শুরু করে জম্মু-কাশ্মির। তারপর গত কয়েক দশক ধরে তাদের অংশ নেওয়া ছিল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ব্যাপার। পাঁচটি দিন ভালো লড়াই দেখাতে পারে কি না, সেটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আর এবার পাঁচ দিন আধিপত্য দেখিয়ে ট্রফি জিতল পরশ দোগরার দল।
প্রথম ইনিংসে জম্মু-কাশ্মির ৫৮৪ রানের বিশাল সংগ্রহ করে। বড় কোনো ইনিংস না হলেও শক্ত জুটিতে ভর করে তারা দাপট দেখায়। দোগরার মন্থর হাফ সেঞ্চুরি, শুভাম পুন্ডিরের ব্যাটে ছন্দ ধরে রাখে তারা। সাহিল লোত্রার অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিনও তারা ব্যাটিং করে গেছে।
কর্ণাটক প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে আকিব নবির বোলিং তোপে পড়ে। লোকেশ রাহুলরা ৫৭ রানে চার উইকেট হারায়। মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ১৬০ রানে যা একটু লড়াই করে। কর্ণাটক ২৯৩ রানে অলআউট হয়।
২৯১ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামে জম্মু-কাশ্মির। কর্ণাটকের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় তারা। শেষ দুই দিন ব্যাট হাতে দাপট দেখায় দলটি। সাহিল প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক সেঞ্চুরি করেন। শেষ দিনের লাঞ্চের পর ৪ উইকেটে ৩৪২ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে জম্মু-কাশ্মির।
৬০০ রান পেরিয়ে যায় লিড। কর্ণাটক আর রান তাড়া করতে নামেনি। ম্যাচ অফিসিয়ালরা ড্র ঘোষণা করেন। প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয় জম্মু-কাশ্মিরকে।
এফএইচএম/