ট্রফি জয়ী জম্মু-কাশ্মিরের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার ঘোষণা

ফাইনাল ড্র হয়েছে, তবুও প্রথম ইনিংসের সৌজন্যে জম্মু-কাশ্মির বিজয়ী হয়েছে। ৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের শীর্ষ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রঞ্জি ট্রফিতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ঐতিহাসিক এই অর্জনে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ পুরস্কার পাচ্ছে পরশ দোগরার দল।
জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ২ কোটি ভারতীয় রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। নিজের অফিসিয়াল সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডলে দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এক্স-এ এক বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, ‘রঞ্জি ট্রফিতে ঐতিহাসিক বিজয়ে টিম জম্মু-কাশ্মিরকে অভিনন্দন। কর্ণাটকের ঘরের মাঠে অবিশ্বাস্য জয়ের পর তাদের খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্য ২ কোটি ভারতীয় রুপি নগদ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।’
ফাইনালে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের লিড নেওয়ার পর কর্ণাটকের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে শিরোপা জিতেছে তারা। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফিতে খেলা শুরু করে জম্মু-কাশ্মির। তারপর গত কয়েক দশক ধরে তাদের অংশ নেওয়া ছিল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ব্যাপার। পাঁচটি দিন ভালো লড়াই দেখাতে পারে কি না, সেটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আর এবার পাঁচ দিন আধিপত্য দেখিয়ে ট্রফি জিতল পরশ দোগরার দল।
প্রথম ইনিংসে জম্মু-কাশ্মির ৫৮৪ রানের বিশাল সংগ্রহ করে। বড় কোনো ইনিংস না হলেও শক্ত জুটিতে ভর করে তারা দাপট দেখায়। দোগরার মন্থর হাফ সেঞ্চুরি, শুভাম পুন্ডিরের ব্যাটে ছন্দ ধরে রাখে তারা। সাহিল লোত্রার অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিনও তারা ব্যাটিং করে গেছে।
কর্ণাটক প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে আকিব নবির বোলিং তোপে পড়ে। লোকেশ রাহুলরা ৫৭ রানে চার উইকেট হারায়। মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ১৬০ রানে যা একটু লড়াই করে। কর্ণাটক ২৯৩ রানে অলআউট হয়।
২৯১ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামে জম্মু-কাশ্মির। কর্ণাটকের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় তারা। শেষ দুই দিন ব্যাট হাতে দাপট দেখায় দলটি। সাহিল প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক সেঞ্চুরি করেন। শেষ দিনের লাঞ্চের পর ৪ উইকেটে ৩৪২ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে জম্মু-কাশ্মির।
৬০০ রান পেরিয়ে যায় লিড। কর্ণাটক আর রান তাড়া করতে নামেনি। ম্যাচ অফিসিয়ালরা ড্র ঘোষণা করেন। প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয় জম্মু-কাশ্মিরকে।
এফএইচএম/