৮০ হাজারের ইডেনে ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই

খুদে ডেভিড দৈত্যাকার গোলিয়াথকে হারিয়ে দিয়েছিল— শক্তিশালীর বিরুদ্ধে দুর্বলের এই জয়ের কাহিনী অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আজ (রোববার) তাদের সামনে ভারত। শুধু ১১ খেলোয়াড়ই নয়, তাদের ৮০ হাজার দর্শকও ক্যারিবিয়ানদের সামনে থাকবে প্রতিপক্ষ হিসেবে। নিঃসন্দেহে এই ম্যাচে স্বাগতিকরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ! তারা বাইবেলের সেই কাহিনীতে অনুপ্রাণিত হয়ে গোলিয়াথসম ভারতকে হারিয়ে অর্ধলক্ষাধিক দর্শকদের নিস্তব্ধ করে দিতে চায়।
সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচ যে ‘অলিখিতি কোয়ার্টার ফাইনাল’ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো ভারতীয়দের কল্পনাতেও ছিল না। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজও হয়তো ভাবতে পারেনি তারা সেমিফাইনালের হাতছানি নিয়ে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে। এক নম্বর গ্রুপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে দুই দলের সামনে সহজ সমীকরণ— হয় জেতো, নয়তো বাড়ি ফেরো।
দুই দলই সমান দুটি করে পয়েন্ট পেয়ে শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে উভয় দল হেরে সেমিফাইনালের আশায় বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ভারত আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে। আফ্রিকানদের বিপক্ষে বড় জয়ের পর তারা মুখোমুখি হচ্ছে ক্যারিবিয়ানদের।
নিশ্চিতভাবে সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে ঘরের দর্শকদের সামনে ক্যারিবিয়ানদের হারাতে চাইবে ভারত। কিন্তু নিজেদের দুর্বল ভেবে আগেই হার মানতে নারাজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি। শনিবার ইডেনে বসে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জিততে গেলে কোনো না কোনো সময়ে ভারতের বিপক্ষে খেলতেই হবে। আমাদের কাছে সেই দিনটা রোববার। জিততে গেলে খুব ভাল একটা ম্যাচ খেলতে হবে। আমি তো এখন থেকেই উত্তেজিত। আশা করি কাল ইডেনে ৮০ হাজার সমর্থক থাকবেন। তার সঙ্গে ১৪০ কোটি ভারতীয় দলকে সমর্থক করবেন। তাই এটা ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই। তবে ২০১৬-তেও যে কথা বলেছিলাম, ডেভিড হারিয়েছিল গোলিয়াথকে। কালকের জন্যও ছেলেদের একই কথা বলব।’
স্যামি মনে করিয়ে দিয়েছেন ১০ বছর আগের বিশ্বকাপের কথা। সে বার সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে এই ইডেনেই বিশ্বকাপ জিতেছিল। অধিনায়ক ছিলেন স্যামিই। এবারও তিনি সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন, ‘এই ম্যাচের অর্থ জানি। নকআউট ম্যাচ, জিতলেই সেমিফাইনালে। যদি সত্যিই যেতে পারি তা হলে প্রচুর উচ্ছ্বাস হবে।’
সেই হারের প্রতিশোধ হয়তো নিতে বদ্ধপরিকর ভারত। বাঁচা-মরার এই ম্যাচের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে বিশেষ ভাবনা তাদের। প্রতিপক্ষ দলে বিধ্বংসী ব্যাটারের সংখ্যা কম নেই। যে কোনো একজন টিকে গেলে একাই ম্যাচ বের করে নিয়ে যেতে পারেন। তাদের বিপক্ষে ২০ ওভারই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে চায় ভারত। আগুনের জবাব আগুনেই দিতে চায় তারা। ম্যাচের আগের দিন এ কথা জানিয়ে দিলেন সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাট।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ এবং মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও শেষ দিকে জেসন হোল্ডার এবং রোমারিও শেফার্ড দলকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেন। সে কথা মাথায় রেখেই ডেসকাট বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না বিশ্বে এমন কোনো ব্যাটিং দল রয়েছে যেখানে রোমারিও শেফার্ড ৯ নম্বরে নামে। তবে এখন এটাই বিশ্বকাপের বেশির ভাগ দলে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা এবার ভাল খেলেছে। ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে গভীরতা রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের রয়েছে। এমনকি ভারতেও রয়েছে। আমাদের দলে অক্ষর পটেলের মতো ক্রিকেটারও দলের প্রয়োজনে নিচের দিকে নামতে তৈরি থাকে।’
ডেসকাট যোগ করলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ বরাবরই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা দেয়। ওটাই ওদের আসল লক্ষ্য। তবে এটা এমন একটা চ্যালেঞ্জ যার জন্য আমরা মুখিয়ে রয়েছি। কাল আমরা আগুনের বিরুদ্ধে আগুন নিয়েই জবাব দেব। নিশ্চিতভাবেই একটা ভাল ম্যাচ হবে।’
সুপার এইটের এই ম্যাচে বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে কী হবে? দুই দলের সমান ৩ পয়েন্ট হবে। তখন নেট রানরেটের হিসাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ উঠে যাবে সেমিফাইনালে।
এফএইচএম/