রাগবি ও ফুটবল একই সঙ্গে চলে জুবলি স্টেডিয়ামে

বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার সাধারণত কাকডাকা ভোরে অনুশীলন করিয়ে অভ্যস্ত। সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন সূচি পড়েছে সকাল ৯ টা থেকে। এতে খানিকটা অসন্তুষ্ট কোচ বাটলার।
বাংলাদেশ দলের অনুশীলন কাভার করতে সকালেই জুবলি স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া। অনুশীলন ভেন্যু হলেও বেশ কড়াকড়ি। সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেখে ও ব্যাগ চেক করিয়ে মিডিয়া সেন্টারে প্রবেশ করার অনুমতি মেলে শেষমেশ। টুর্নামেন্টের আগে প্রতি দলের অনুশীলনের পরিকল্পনা থাকায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে কাভার দেওয়া হয়েছে মিডিয়া সেন্টারের সামনে। যেন কোনো ছবি-ভিডিও না নেওয়া যায়। আয়োজনের দিক থেকে তাদের সচেতনতা এটাই প্রমাণ করে।

ছোট স্টেডিয়াম হলেও মিডিয়া সেন্টার বেশ সুসজ্জিত, ক্যাটারিং ব্যবস্থাও গোছালো। অস্ট্রেলিয়া ফুটবল ফেডারেশন থেকে এই ভেন্যুর জন্য নিযুক্ত ম্যানেজার কেটের থেকে পাওয়া তথ্য, এটা আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব সিডনি এফসির প্রধান ভেন্যু ছিল। এখনও এখানে সিডনি এফসি লিগের ম্যাচ খেলে।
অস্ট্রেলিয়ায় রাগবি অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা। রাগবি ও ফুটবল একই সঙ্গে চলে জুবলি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশে সম্প্রতি ফুটবল স্টেডিয়াম রাগবির ব্যবহার নিয়ে বেশ সংকট হয়েছিল। সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় অনেক ভেন্যুতে রাগবি ও ফুটবল একসঙ্গে চলে। রাগবি নিয়ে কেটের মাধ্যমে জানা গেল, এখানে রাগবিতেও অনেক দর্শক হয়। গ্যালারির টিকিট ২৫ ডলার, সবাই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা দেখে।
জুবলি স্টেডিয়ামের এক প্রান্তে ঘাসের গ্যালারি। দর্শকরা সেখানে শুয়ে-বসেও ফুটবল-রাগবি দেখতে পারেন। তবে সবচেয়ে মুগ্ধকর বিষয় মাঠ। এত মসৃণ, সবুজ মাঠ বাংলাদেশ তো বটেই দক্ষিণ এশিয়াতেই কম। মাঠের চর্চাও অস্ট্রেলিয়ানরা করে গুরুত্ব দিয়ে। বাংলাদেশের অনুশীলনের পর পরই দুটি ঘাস কাটার মেশিন দেখা যায় মাঠে।

১৯৩৫ সালে জুবলি স্টেডিয়ামের প্রতিষ্ঠা। রাগবি দিয়ে ভেন্যুর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হলেও পরবর্তীতে ফুটবলও চলেছে একসাথে। ৯০ বছরের স্টেডিয়াম কয়েকবার সংস্কার হয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার জন্য বেশ গোছালো সুন্দর থাকলেও এশিয়া কাপের অনুশীলন ভেন্যু হিসেবে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ম্যাচ ভেন্যুর মান ও সুযোগ সুবিধা আরও কত বেশি সহজেই অনুমেয়।
এজেড/এফআই