বিশ্বকাপ ও জামালদের ভেন্যুতে খেলবেন ঋতুপর্ণারা

চারদিকে সুনসান নীরবতা। মাঝ দুপুরেও পাখির কলতানের শব্দ স্পষ্ট কানে আসছে। নারী এশিয়ান কাপের ভেন্যু পার্থ র্যাকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামের সামনে আরও কোলাহলশূন্য। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা যেন পার্থে আলাদা সৌন্দর্য।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আগামীকাল এশিয়া কাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে। পার্থের এই স্টেডিয়ামে জামাল ভূঁইয়ারা ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া ৫-০ গোলে হারিয়েছিল। ১১ বছর পর সেই একই স্টেডিয়ামে আফিদা-ঋতুপর্ণারা খেলতে নামবেন।
অস্ট্রেলিয়ায় নারী এশিয়া কাপে স্টেডিয়াম ও ভেন্যুর সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভেন্যু ম্যানেজার কিংবা কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির এক কর্মকর্তা, যিনি পার্থের মিডিয়া তত্ত্বাবধানে আছেন, তিনি স্টেডিয়াম নিয়ে খানিকটা তথ্য দিলেন। বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল যখন এই স্টেডিয়ামে খেলেছিল, তখন নাম ছিল নিব স্টেডিয়াম। এখন এর নাম এইচবিএফ পার্ক। এএফসির টুর্নামেন্টে কোনো প্রতিষ্ঠান ও নামের ব্র্যান্ডিং করা যায় না, এজন্য এই টুর্নামেন্টে এই স্টেডিয়াম পার্থ র্যাকট্যাঙ্গুলার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পার্থের মতোই এই টুর্নামেন্টের জন্য সিডনিতে কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামের নামকরণ হয়েছে ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়াম সিডনি।

পার্থের এই স্টেডিয়ামের আগের নাম ছিল ওভাল। গোল আকৃতির পরিবর্তে স্কয়ার আকৃতি করা হয়। বেশ কয়েকবার এই স্টেডিয়াম সংস্কার হয়েছে। ২০২৩ ফিফা নারী বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল অস্ট্রেলিয়া। ওই বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচও হয়েছিল এই ভেন্যুতে।
বিশ্বকাপের ভেন্যু হলেও স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা বেশি নয়। মাত্র হাজার বিশেক আসন হলেও স্টেডিয়ামের সুযোগ সুবিধা সর্বোচ্চ পর্যায়ের। অন্য সব ভেন্যুর চেয়ে এই স্টেডিয়ামের প্রেসবক্স খানিকটা ভিন্ন। কাঁচঘেরা পরিবেশের পরিবর্তে খোলা অবস্থায় সাংবাদিকদের বসার জায়গা। দর্শক উন্মাদনা ও খেলোয়াড়দের কথা প্রেসবক্স থেকে শোনার সুযোগ। প্রেসবক্স থেকে সিঁড়ি দিয়ে একটু নামতেই মিডিয়া সেন্টার ও প্রেস কনফারেন্স কক্ষ। বাংলাদেশে ম্যাচ শুরুর আগের দিন প্রেসবক্সে রাত পর্যন্ত কাজের সুযোগ পায়। নারী এশিয়া কাপে ম্যাচের আগের দিন প্রেস কনফারেন্স শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে মিডিয়া সেন্টার ছাড়তে হয়। যা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য অনেক সময় বিড়ম্বনার।
নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সিডনিতে ভালো স্টেডিয়াম ও সুন্দর মাঠে অনুশীলন করেছে। পার্থেও একই সুযোগ সুবিধা। বাংলাদেশের ফুটবলাররা ভালো মাঠ ও স্টেডিয়ামের জন্য কত কষ্ট করেন! বাংলাদেশের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার আজ প্রেস কনফারেন্সে স্টেডিয়াম নিয়ে বলেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি যে, আমাদের যদি দেশের মাঠগুলো ভালো থাকে, তাহলে আমরা আরও ভালো প্র্যাকটিস করতে পারব, আমাদের সুবিধা হবে। আমাদের দেশে একটা ভালো মাঠের খুব প্রয়োজন। সেটি যদি খুব তাড়াতাড়ি করা হয় তবে দেশের ফুটবলের জন্য সেটি অনেক ভালো হবে।’
এজেড/এফএইচএম