বিজ্ঞাপন

সমালোচনা সত্ত্বেও আকাশ ছুঁতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটমূল্য

অ+
অ-
সমালোচনা সত্ত্বেও আকাশ ছুঁতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটমূল্য

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে অনেকদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল ফাইনাল ম্যাচে ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের মূল্য ৬৯৫ ডলার থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১৫৫০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই দাম একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ শতাংশের বেশি। ফাইনাল ম্যাচের টিকিটমূল্য ৫৭৮৫ ডলার থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১০৯৯০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। গত বছরের অক্টোবরে সাধারণ বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই টিকিটের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শুরুতে ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের মূল্য ছিল ২৭৯০ ডলার এবং ক্যাটাগরি-১ টিকিট ছিল ৬৭৩০ ডলার। কয়েক মাসের মধ্যেই এই দাম দ্বিগুণের বেশি হয়ে এখন সর্বোচ্চ ১০৯০০ ডলারে পৌঁছেছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৪৩ লাখ টাকা। আর সর্বনিম্ন টিকিটের (ক্যাটাগরি-৩) দাম ৭ লাখ টাকারও বেশি।

সর্বশেষ ডিসেম্বরে ক্যাটাগরি–৩ এর টিকিটের যে দাম দেখানো হয়েছিল তার চেয়েও বাড়ানো হয়েছে ৩৮ শতাংশ। আর ক্যাটাগরি-২ এ বেড়েছে ৩২.৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া চূড়ান্ত ধাপের টিকিট বিক্রিতে হঠাৎ করেই টিকিটমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ফিফা। অথচ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির টিকিট ছিল ১৬০৪ ডলার এবং সর্বনিম্ন ৬০৩ ডলার। সেই হিসাব করেই আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ফাইনালের প্রাথমিক টিকিটমূল্য নির্ধারিত হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য কেবল বিশ্বকাপের ফাইনালই নয়, অন্যান্য ম্যাচের টিকিটের দামও অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ১৩ জুন স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে ম্যাচের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ২,৭৩৫ ডলার, যেখানে এক হাজারের বেশি আসন বিক্রির জন্য উন্মুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। ফিফা এই উচ্চমূল্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, উত্তর আমেরিকার বাজারমূল্য ও ব্যাপক চাহিদার কারণে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয় বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

আসন্ন টুর্নামেন্টটিতে টিকিটের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ শুরু থেকে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের কথা জানিয়ে আসছে ফিফা। অর্থাৎ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে টিকিটের দাম ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আবার উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে কেবল নেদারল্যান্ডসের একটি ম্যাচই কেনার সুযোগ পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত ধাপের টিকিট বিক্রি শুরু হলেও, কোন ম্যাচের কত টিকিট বাকি সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন এড়াতে ফিফাকে চিঠি

এর আগে ফিফা প্রাথমিক পর্যায়ের টিকিটের অতিরিক্ত দামের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তখন তারা ‘সাপোর্টার এন্ট্রি টায়ার’ নামে নতুন একটি ক্যাটাগরি চালু করে, যেখানে কিছুসংখ্যক টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বিক্রি করা হয়। তবে সর্বশেষ বিক্রিতে এই টিকিট আর পাওয়া যায়নি, এগুলো আদৌ বিক্রি হয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফিফার ভাষ্যমতে– বিশ্বকাপের টিকিট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিক্রি করা হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সেকেন্ড-হ্যান্ড বাজারে টিকিটের দাম প্রকৃত মূল্যের চেয়ে আরও অনেক বেশি। তবে মেক্সিকোতে মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট পুনরায় বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ।

এএইচএস