সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবারের ওই ম্যাচে হামজা চৌধুরীও মাঠে নামেন। ততদিনে প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সি পরার পর কেটে গেছে এক বছর ও এক সপ্তাহ।
বিজ্ঞাপন
মা বাংলাদেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা লাভ করেছিলেন হামজা। তার ক্লাব ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের লিস্টার সিটি। ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতার এক ক্লাবের খেলোয়াড় বাংলাদেশের ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করবেন, এই ব্যাপারটি রোমাঞ্চ ছড়িয়েছিল দেশের ভক্ত-সমর্থকদের মনে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে হামজা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পান এবং দেশের হয়ে খেলার যোগ্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে পেয়ে যান।

গত মার্চে প্রথমবার বাংলাদেশের জার্সি পরেন এবং ভারতের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। তারপর কেটে গেছে ১২ মাস, লাল-সবুজ জার্সিতে ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে খেলেন। ইনজুরির কারণে কেবল নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন না তিনি। যতবার খেলেছেন, ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। পুরো মাঠ যেন নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। মুহুর্মুহু সুযোগ তৈরির পাশাপাশি চার গোল ছিল এই ইংল্যান্ড প্রবাসী তারকার।
বাংলাদেশকে বড় কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি হামজা। বিশেষ করে এশিয়ান কাপ বাছাই উতরে যাওয়া সিঙ্গাপুরের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পেছনে থেকে এই টুর্নামেন্ট শেষ করেছে তারা। তবে ২০০০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের পর প্রথমবার এই যাত্রা তলানিতে না থেকে শেষ করল বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
এই সময়ে দলের সেরা সাফল্য এসেছে ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয়। ২২ বছরে প্রথমবার ভারতকে ১-০ গোলে হারাল তারা। সিঙ্গাপুর ম্যাচ শেষে দেশে ফিরেছেন অন্যরা, তবে হামজা চলে গেছেন ইংল্যান্ডে। সেখান থেকে এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লাল-সবুজ জার্সিতে নিজের প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করলেন, ‘আমরা যেভাবে গ্রুপ পর্ব শেষ করতে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি! কিন্তু এক বছরে আমরা কতদূর এগিয়েছি সেজন্য আমি সত্যিই গর্বিত। ইনশাআল্লাহ সামনে আমাদের জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করছে। বরাবরের মতোই সবার সমর্থন ছিল অবিশ্বাস্য।’

এর আগে সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পর ইএসপিএন-কে তিনি বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেছিলেন, ‘এটা সত্যিই অসাধারণ। বিস্ময়কর। সত্যি বলতে, এটি আমার করা সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি। আমি এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করতে পারতাম না। অবশ্য, বাছাইপর্বের বিষয়টি বাদে।’
দল নিয়ে আশাবাদী তিনি, ‘তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো সবাইকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। সবাই কিছুটা হতাশ, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে পরবর্তীতে যখন আমরা আমাদের খেলার ভিডিওগুলো আবার দেখব, তখন বুঝতে পারব আমরা দল হিসেবে আগের চেয়ে কতটা উন্নত হয়েছি।’
বিজ্ঞাপন
এফএইচএম/
