বাংলাদেশ হকির অন্যতম কিংবদন্তি রাসেল মাহমুদ জিমি। তার ছোট ভাই খালেদ মাহমুদ রাকিনও এক যুগের বেশি সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে হকি খেলছেন। জাতীয় দলে ক্যাম্পেও ছিলেন বেশ কয়েকবার। তবে এই প্রথমবার জাতীয় দলের ১৮ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এশিয়ান গেমসের বাছাই টুর্নামেন্টের জন্য গত পরশু হকি ফেডারেশন ১৮ জনের নাম চূড়ান্ত করে। সেই তালিকা প্রকাশের পর বেশ আবেগাপ্লুত রাকিন, ‘বাবা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন। তার দুই ছেলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলছে। বাবার কথা খুব স্মরণ হয়েছে।’
জিমি ও রাকিনের বাবা আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া। সাবেক হকি খেলোয়াড় ও কোচ। অন্য সবার মতো নিজের দুই ছেলেকেও হকিতে এনেছেন। জিমি তো বাংলাদেশের হকির ইতিহাসে সেরা খেলোয়াড়দেরই একজন। ২৯ বছর বয়সী রাকিন জাতীয় দলে দ্যুতি না ছড়াতে পারলেও ক্লাব এবং বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দাপটের সঙ্গেই খেলেছেন। ২০১৪ সালে চীনের নানজিংয়ে জুনিয়র অলিম্পিকে ফাইভ-এ-সাইডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর পর্যায়ক্রমে অ-১৬ ও অ-২১ দলে খেলেছেন অনেক। উষা, অ্যাজাক্সে খেলার পর গত তিন মৌসুম ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের জার্সিতে খেলেছেন।

বিকেএসপির শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালে জাতীয় দলে প্রথম ডাক পেয়েছিলেন রাকিন। বিপ্লব, চয়নের মতো সিনিয়র পারফর্মার থাকায় সেই সময় ডিফেন্ডার রাকিন চূড়ান্ত স্কোয়াডে নিজের নাম লেখাতে পারেননি। এরপরও গত ১১ বছরের মধ্যে একাধিকবার তিনি ক্যাম্পে ছিলেন। কোনো না কোনো কারণে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়তেন। এত বছর পর জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাক পেয়ে রাকিনের অনুভূতি, ‘প্রথম দিকে অনেক বড় মাপের সিনিয়র খেলোয়াড় ছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে ক্যাম্পে সেভাবে নিজের পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। এবার সব কিছুই ইতিবাচক ছিল।’
বিজ্ঞাপন
রাকিন এক দশক পর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। এটা যেমন তার জন্য তৃপ্তির, তেমনই খানিকটা অতৃপ্তিও কাজ করছে, ‘ইচ্ছে ছিল দুই ভাই (জিমি) এক সঙ্গে একই ম্যাচে খেলব। সেটা এই টুর্নামেন্টে হচ্ছে না। জানি না অদূর ভবিষ্যতে হবে কিনা।’ জিমি জাতীয় দলে অধিনায়কত্ব করেছেন। দুই দশক বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছেন। এখনো ফিটনেস ও ফর্ম রয়েছে। এরপরও হকি ফেডারেশন জিমিকে বাতিলের খাতায় ফেলেছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় অনেক সমালোচনা হলেও তার জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলেনি। নিজের ভবিষ্যৎ অদৃশ্যে রেখে জিমি ভাইয়ের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ‘রাকিন অনেক দিন থেকে পরিশ্রম করছে। শেষ পর্যন্ত সে জাতীয় দলে খেলছে। এটা তার সাধনারই ফল। বাবা জাতীয় দলে খেলেছে, আমি খেলেছি এবং ভাই খেলবে এটা অবশ্যই আমাদের পরিবারের জন্য বিশেষ। আমি এখনো দেশের হয়ে খেলতে চাই, সেই সুযোগ পাব কিনা সেটাই সময় বলবে।’
জাতীয় দলের বর্তমান হেড কোচ আশিকুজ্জামান চূড়ান্ত স্কোয়াড নিয়ে বলেন, ‘রাকিন অনেক দিন থেকেই হকির সঙ্গে জড়িত। এবার সে প্র্যাকটিসে খুব ভালো করেছে। রাকিনের মতো অ-২১ দলের অধিনায়ক সামিন ও গোলরক্ষক সাদ প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছে।’

এশিয়া কাপে বাদ পড়া সিনিয়র খেলোয়াড় পুষ্কর ক্ষিসা মিমো পুনরায় জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। এশিয়ান গেমসে বাছাই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আর্মব্যান্ড থাকছে রাব্বির হাতে আর সহ অধিনায়ক গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জন্য ভেন্যু ওমান থেকে বদলে থাইল্যান্ড হয়েছে। বাংলাদেশ দলের ৩১ মার্চ থাইল্যান্ড রওনা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও এখনো ভিসা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের জন্য বাংলাদেশের ১৮ জনের স্কোয়াড-
বিপ্লব কুজুর, আশরাফুল হক সাদ,আশরাফুল ইসলাম,আল নাহিয়ান শুভ, হুজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করীম বাবু, মেহরাব হোসেন সামিন, রুম্মান সরকার, ফজলে হোসনে রাব্বি, আবেদ উদ্দিন,শাহিদুর রহমান সাজু, ওবায়দুল হোসেন জয়, মো. আব্দুল্লাহ, দ্বীন ইসলাম ইমন, খালেদ মাহমুদ রাকিন, রাকিবুল হাসান রকি ও পুষ্কর ক্ষিসা মিমো।
এজেড/এফএইচএম
