ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. সাজ্জাদ হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা মারধরের সঙ্গে জড়িত ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুর্বৃত্তায়নের মাত্রা বেড়ে গেছে। খেয়াল করে দেখবেন ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রায়শই ছিনতাইয়ের ঘটনা‌ ঘটছে, মানুষকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনা ঘটছে। মাস্তানিতে সিদ্ধহস্ত হওয়ার জন্য ক্যাম্পাসের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের অপব্যবহার করে নির্যাতন, হেনস্থা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের এই পরিস্থিতি আজকের নয়।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে যারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাদের কোন বিচার হয় না। ঘটনার দুইদিন হয়ে গেল কিন্তু এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করার কোন উদ্যোগ নেয়নি। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শুধু যারা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী তারাই যে ক্ষতির শিকার হবে তা নয় সবার স্বাধীন চলাফেরার যে অধিকার সেটা বিঘ্নিত হবে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে‌ যখন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে আসে তখন তাদেরকে প্রশাসনিক কায়দার বাইরে গণরুমগুলোতে রাখা হয়। তারপর তাদেরকে গেস্ট রুমে নিয়ে সবক দেওয়া হয় যে এটা করবে ওটা করবে। ক্যাম্পাসে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে বড় ভাইয়ের কাছে আসবে তারা তোমাদের সবকিছু সমাধান করে দিবে। এই ধরনের একটা সাহস তাদেরকে দেওয়া হয়। এজন্যই তারা একজন ডাক্তারকে পর্যন্ত মারধর করে এসেছে। তা না হলে গ্রাম থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী ধুম করে কাউকে গিয়ে এভাবে আহত করবে না।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থীর হামলার শিকার হন ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাত ৭-৮ জন শিক্ষার্থী এই হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় জিডি করেছেন সাজ্জাদ।

এইচআর/আইএসএইচ