কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। চারজনের মৃতদেহ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (০৩ মে) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। এরপর নিজ বাড়িতে নিহতদের মরদেহ নিয়ে যায় স্বজনরা। পরে বিকেলের দিকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন-আস্তানগর গ্রামের দাউদ মন্ডলের ছেলে লাল্টু (৪০), মৃত হাসেম আলীর ছেলে কাশেম (৫০), মৃত আবুল আলীর ছেলে রহিম (৫৫) এবং আজিজের ছেলে মতিয়ার (৪৫)।

নিহত মতিয়ার, লাল্টু ও কাশেম বর্তমান ঝাউদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসানের সমর্থক এবং আব্দুর রহিম মালিথা প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলীর সমর্থক।

ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদি হাসান জনি। তিনি জানান, নিহত ৪ জনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আস্তানগর বাজারে কেরামত আলীর সমর্থক আব্দুর রহিম মালিথার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেহেদী হাসানের সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে রহিমের ওপর হামলা চালায়। এসময় লাঠির আঘাতে রহিম মাটিতে পড়ে যান।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মেহেদী সমর্থকরা স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। ইতোমধ্যে রহিমকে মারধরের সংবাদ পেয়ে কেরামত আলীর সমর্থকরা পাল্টা মেহেদী সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে মেহিদীর সমর্থকরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এই সুযোগে কেরামত আলীর সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আঘাত করে। এসময় মেহেদীর সমর্থক মতিয়ার, লাল্টু ও আবুল কাশেম গুরুতর জখম হয়।

পরে সংবাদ পেয়ে ইবি থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন ১০ জন। 

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকের মাতমের পাশাপাশি এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কিত এখানকার সাধারণ মানুষ।

আর ন্যাক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল সংঘর্ষে নিহত ৪ জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান কেরামত উল্লাহর সঙ্গে ফজলু মন্ডলের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সোমবার বিকেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

রাজু আহমেদ/এমএএস