দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ ও সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে প্রশাসনের মধ্যে থাকা জিন-ভূতদের শাস্তেয়া করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
 
তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট যারা ভাঙবেন আমি মনে করি তাদের ভেতরেই জিন-ভূত আছে। প্রশাসনের মধ্যে থাকা এই জিন-ভূতদের শায়েস্তা করতে হবে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো প্রশাসনের মধ্যে যারা জিন-ভূত আছে বা অসৎ আমলা আছে তাদের শায়েস্তা করার উদ্যোগ নিন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা আছে সুতরাং তারা ঘর কাটা ইঁদুর, তাদের থেকে সতর্ক হোন এবং আপনি (প্রধানমন্ত্রী) পারবেন সমাধান করতে।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে প্রয়াত জাসদ নেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গার স্মরণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
 
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ প্রসঙ্গে হাসানুল হক ইনু বলেন, অর্থনৈতিক পরিচালনা কিছু ভুলত্রুটি একটা কারণ। আরেকটা কারণ হচ্ছে ব্যবসায়ীদের কারসাজি এবং দুর্নীতি। এই দুইটা কারণে দ্রব্যমূল্যের বাজার উঠানামা করছে। আমি মনে করি এ দুটি কারণ আমাদের আয়ত্বের ভেতরে আছে, এখন সমাধান জরুরি। সুতরাং ব্যবসায়ীদের কারসাজি এবং সিন্ডিকেট ভাঙা হবে। অসৎ রাজনীতি, অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ আমলা, এদের নিয়ে যে সিন্ডিকেট এই সিন্ডিকেট হচ্ছে দুর্নীতির মহাদানব। এই দানবদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। সেই সঙ্গে নিত্যপণ্যের যে আমদানিকারক পাঁচ-ছয়টা বড় কোম্পানি আছে, যারা আমদানি করছে তাদের যে সিন্ডিকেট সেটাও ভেঙে দেওয়া গেলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, খুচরা বাজারের সঙ্গে পাইকারি আড়তেও অভিযান চালানো দরকার। অভিযানে বড়দের গলায় গামছা দিয়ে হাজতে নিয়ে যান, বাজারটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। যে অভিযান চলছে তার পাশাপাশি যেসব ভুলত্রুটি আছে তার সংশোধন করে সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে পদক্ষেপ নিলে বাজারে ১৫ দিনে একটা স্বস্তির ভাব ফিরে আসবে। শুধুমাত্র বাজারে অভিযান চালালেই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না।
 
ইফতারে খেঁজুরের পরিবর্তে বরই খাওয়ার ব্যাপারে সরকারে থাকা এক মন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, আমি তাদের বলতে চাই- আপনি কোনো বিষয়ে সমস্যার সমাধান দেবেন, বিকল্প খাওয়ার প্রস্তাব দেবেন না। এটা হচ্ছে জনগণের সাথে ঠাট্টা মশকরা এবং জনগণের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়া। সুতরাং সমাধান দিন, সমাধান না দিতে পারলে জিহ্বা সংযত রাখুন, আবোল তাবোল বকবেন না।

তিনি আরও বলেন, একদিকে বাজারে অভিযান আরেক দিকে অর্থনৈতিক কিছু সিদ্ধান্তের ভুলত্রুটি। এসব সংশোধন করে সমন্বিত পদক্ষেপে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে আমার মনে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যে আমি আশার আলো দেখছি, উনি পরিস্থিতিটা বুঝতে পারছেন এবং কোথায় আঘাত করতে হবে সেটা বুঝতে পারছেন। আমি আবার পরামর্শ দিব লেজে বাড়ি মারবেন না, মাথায় বাড়ি মারেন।

এর আগে বিকেলে রংপুর জেলা জাসদ আয়োজিত স্মরণ সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক এই মন্ত্রী। 

রংপুর জেলা জাসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কুমারেশ রায়ের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জাসদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডা. একরামুল হোসেন স্বপন, ভাষাসৈনিক ও রংপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আফজাল, রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, কারমাইকেল কলেজের সাবেক ভিপি আলাউদ্দিন মিয়া, রংপুর মহানগর জাসদের সভাপতি সহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর