ঘটনার পর চারজনকে আটক করা হয়েছে

বরিশালে সিটি করপোরেশনের এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শকের (অপারেশন-২) মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মানু মিয়ার গলিতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অভিযুক্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

আটকরা হলেন- নগরীর গোরস্থান রোডের বাসিন্দা তানভির খান তুষার (২২), হাশেম (২২), সুমন দাস (২৫) ও তানভীর ইসলাম (২১)। 

হামলায় আহতরা হলেন- কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক  (অপারেশন-২) আনোয়ার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিজান।

জানা গেছে, মানু মিয়ার গলি এলাকার বাসিন্দা নিক্কন বিশ্বাস ও বিলাস বিশ্বাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিস হয়েছে। সর্বশেষ লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্নার কাছে। তবে সালিসে কাউন্সিলর এক পক্ষ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিলাস বিশ্বাস। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ শুরু করে নিক্কন বিশ্বাস। তখন বিলাস বিশ্বাস ৯৯৯ নম্বরে কল করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এতে ক্ষিপ্ত হন ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না।

বিলাস বিশ্বাস বলেন, ওই জায়গায় আমরা ৪০ বছর ধরে বসবাস করছি। আমার কাকা বিমল বিশ্বাসের কাছ থেকে দেড় শতাংশ জমি সাফ কবলা দলিল গ্রহণের উদ্দেশ্যে ধার্যকৃত মূল্য বায়না চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করি। এর মধ্যে বিমল বিশ্বাসের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিশদের দলিল করে দিতে বললেও নানাভাবে ঘুরাচ্ছে আমাকে। পরবর্তীকে আমার কাকা বিমল বিশ্বাসের ছেলে নিক্কন বিশ্বাস তার দলীয় লোকজন নিয়ে আমার বসতঘর ভাঙচুরসহ নানাভাবে হুমকি দিয়েছে। ২৪ মে ইট-বালু এনে আমার ঘরের পাশে জড়ো করে নতুন করে স্থাপনা তৈরির চেষ্টা চালায়। আমার ঘরও ভাঙচুর করা হয়। 

এই ঘটনায় আমি কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছি। কিন্তু আজ সকালে তারা আবার কাজ শুরু করলে আমি থানায় খবর দেই।  এরপর নিক্কনের পক্ষে মান্না ভাইও আসে। পুলিশ আর মান্না ভাইয়ের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। কাউন্সিলর সাহেব পুলিশকে গালাগাল করে মোবাইল ছিনিয়ে নেন। সকাল থেকে কাউন্সিলর মান্না ভাইয়ের লোকজনও দাঁড়িয়ে থাকেন ওদের কাজের জন্য।

নিক্কন বিশ্বাসের স্ত্রী জেসমিন বিশ্বাস বলেন, ওই জমিটা আমাদের। আমার স্বামী ওদের থাকতে দিয়েছিল। কাউন্সিলর সালিস করে বলেছেন, আমরা যদি ওদের (বিলাস বিশ্বাস) থাকতে দেই তাহলেই ওরা থাকতে পারবে। কাউন্সিলর তিনদিন সময় বেঁধে দিয়েছিল তাদের রান্না ঘর ভেঙে ফেলার জন্য। ওখানের জায়গাটা উঁচু করে আমরা থাকবো। তিনদিন সময়ের পর না ভাঙায় তারপর কাউন্সিলর লোক পাঠায় বিলাসদের রান্না ঘর ভাঙার জন্য। আমাদেরও সেখানে কাজ শুরু করতে বলে এবং কাউন্সিলর বলেছে আমরা কাজ করার সময় তার লোকজন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকবে। এরপর বিলাসরা নানা জায়গায় নালিশ দিয়েছে, পুলিশ আনছে। আজকে আমরা কাজ শুরু করার সময় ওরা বাধা দিলে বিষয়টি কাউন্সিলর মান্নাকে জানানো হয়। এরপর তিনি এখানে আসলে পুলিশের সঙ্গে গন্ডগোল হতে দেখেছি।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে আমরা সেখানে যাই। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলাম। এর মধ্যে কাউন্সিলর মান্না এসে আমাদের গালিগালাজ করেন, মারতে আসেন। আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন-২) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমে একজন সাব ইন্সপেক্টর পাঠানো হয় ঝামেলার কথা শুনে। পরবর্তীতে আমি যাই। অভিযোগ ছিল এখানে অবৈধভাবে একজনের বাসা উচ্ছেদ করা হচ্ছিল। ঘটনাটা বোঝার জন্য দুই পক্ষকে ডেকে কথা বলছিলাম। এর মধ্যে কাউন্সিলর মান্না তার বাহিনী নিয়ে এসে আমার ওপর হামলা করে, আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমাকে বলেন ‌‘তুই এখানে কেন আসছোস? এই বরিশাল আমার এলাকা। তুই কে? তোর পোশাক খুলে নিয়া যাবো।’

এ বিষয়ে কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না বলেন, জমি পরিমাপ নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। তবে নিউজ করার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সৈয়দ মেহেদী হাসান/আরএআর