ফেনীতে প্রাথমিকে শতভাগ বই, মাধ্যমিকে অর্ধেকেরও কম সরবরাহ
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও ফেনীতে এবারও বছরের প্রথমদিনে শতভাগ বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জেলাজুড়ে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক ও দাখিল স্তরে চাহিদার প্রায় অর্ধেকের বেশি সব বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও মাদরাসা স্তরে পাঠ্যবইয়ের চাহিদার সরবরাহ এখনো বাকি থাকায় বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, ফেনীতে মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৫ জন এবং মাদরাসায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫ জন। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দাখিলে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০টি। মোট প্রাপ্তির হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া মাধ্যমিকে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬০টি। মোট প্রাপ্তির হার ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকে জেলায় মোট বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯২৮টি। চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে জেলার ৫৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। ফেনীর ছয় উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বই ২ লাখ ৯ হাজার ৬২২টি, দাগনভূঞায় ৯১ হাজার ৬৭০টি, সোনাগাজীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি, ছাগলনাইয়ায় ৫৯ হাজার ৬৪৪টি, পরশুরামে ৪২ হাজার ৫৮২টি ও ফুলগাজীতে ৫০ হাজার ১০টি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চ. দা.) ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকে ইতোমধ্যে চাহিদা শতভাগ বই এসেছে। সবগুলো বিদ্যালয়ে বই পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা শতভাগ নতুন বই হাতে পাবে।
বিজ্ঞাপন
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বই এসেছে। প্রতিদিন বই আসছে। বছরের শুরুর দিনে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাবে না। চাহিদার শতভাগ বই কবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসব না হলেও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা সুবিধাজনকভাবে তাদের বই সংগ্রহ করবেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে শুরু হয়েছিল নতুন কারিকুলামে পাঠদান। এক বছরের মাথায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আবারও গতবছর পূর্বে কারিকুলামে ফিরে যায় শিক্ষাব্যবস্থা।
তারেক চৌধুরী/আরকে