ঠাকুরগাঁওয়ে যাত্রীবাহী বাস ও তেলবাহী লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালকসহ সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বড় খোঁচাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, তেলবাহী লরির চালক ও পৌর শহরের শাহাপাড়া এলাকার প্রভাত রায়ের ছেলে বিশ্বাস রায় (৪৫), হানিফ পরিবহনের চালক ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকার চাটালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শামসুল হক (৩৫), বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মফিজুল ইসলামের ছেলে তারেক আলী(২৬), শাহাপাড়ার এলাকার নাজিমউদ্দীনের ছেলে তৌয়বুর রহমান (৬০), মুসলিমনগর এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে আইজার রহমান (৪০), বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাসিন্দা  আলামিনের ছেলে রিপন ইসলাম (৪২) ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পলাশবাড়ী এলাকার আবুল কালামের ছেলে শাহা আলম (৪৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে ঘন কুয়াশার কারণে হানিফ পরিবহনের একটি নৈশকোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একই কোম্পানির একটি তেলবাহী লরির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাস ও লরিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে বাস ও লরির দুই চালকের অবস্থা গুরুতর। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চালক মো.শামসুল হকের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, সকালে কুয়াশা এত ঘন ছিল যে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি বাস আর তেলবাহী লরি মুখোমুখি ধাক্কা লেগে দুটিই দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কুয়াশার কারণে এ সড়কে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আহত এক চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রেফার্ড করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এবিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রেদওয়ান মিলন/আরকে