টানা তিন দিন ধরে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জনপদ। হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশার দাপটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছিন্নমূল, অসহায় ও দিন আনা দিন খাওয়া খেটে খাওয়া মানুষদের।

শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, টানা তিন দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়েছে।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আগামী এক থেকে দুই দিন শৈত্যপ্রবাহ সাময়িকভাবে নাও থাকতে পারে। তবে আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে পুনরায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে সময় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে কনকনে ঠান্ডায় প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, বাজারগুলোতেও লোকসমাগম স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকদের।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার এলাকায় কথা হয় দিনমজুর আব্দুল মালেকের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই শীতে কাজ করাই সবচেয়ে কষ্টের। কাজ না করলে খাওন জোটে না। শরীর কাঁপে, কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকতেই হয়। একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না।

একই কথা বলেন ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম। শীতের সকালে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নেমে তিনি বলেন, ভোরে বের হলে হাত-পা বরফ হয়ে যায়। যাত্রীও কম। তবুও বের না হলে সংসার চলবে কীভাবে? একটা কম্বল থাকলে অনেক উপকার হতো।

রিকশাচালক সেলিম মিয়া জানান, শীতের কারণে অনেক যাত্রী রিকশায় উঠতে চায় না। আয় অর্ধেক হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতেও কষ্ট হয়। শীতবস্ত্র পেলে আমাদের মতো মানুষের খুব উপকার হতো।

শীত থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে জেলার বিভিন্ন মোড়, চায়ের দোকান ও বাজার এলাকায় খড়কুটো, কাঠ ও পুরনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। পাতলা জামাকাপড়ে ঠান্ডা সামলাতে গিয়ে অনেককেই চরম কষ্ট করতে হচ্ছে।

এদিকে শীতের এই কঠিন সময়ে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শহরের একাধিক স্থানে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল, শীতের কাপড় ও অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সংগঠনগুলোর স্বেচ্ছাসেবীরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থেকে শীতার্ত মানুষদের খুঁজে খুঁজে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেন। এতে কিছুটা হলেও শীতার্ত মানুষের মুখে স্বস্তি ফিরেছে।

আফজালুল হক/এআরবি