হান্নান মাসউদের মনোনয়ন বৈধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
আবদুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এনসিপির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মো. মাহবুবের রহমান শামীমসহ মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকায় রুহুল আমিন হাওলাদার মনোনীত জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী নাসিম উদ্দিন মো. বায়েজিদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে জাপার চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের মনোনীত প্রার্থী এ টি এম নাবী উল্যাহর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৬২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৭ জন দলীয় এবং ১৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টি ও এলডিপিসহ মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। বিভিন্ন কারণে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়া একটি বিচ্ছিন্ন ও অত্যন্ত দুর্গম দ্বীপাঞ্চল। এখানে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। নির্বাচনের আগে চিরুনি অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করলে এর প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, পলাতক স্বৈরাচারদের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টি বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এসব দোসরদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছি। আশা করি নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
তবে নির্বাচনের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাতিয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নোয়াখালীতে নির্বাচন পরিবেশ নিয়েও কোনো প্রশ্ন আসেনি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
হাসিব আল আমিন/আরকে