আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহে চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এই আসনে ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে রাশেদ খাঁনসহ ২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। এ সময় চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে তথ্য সঠিক না থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম। জেলায় ৪টি সংসদীয় আসনে জমা পড়ে মোট ২৭টি মনোনয়নপত্র। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।

বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলম বিশ্বাস, তিনি ঋনখেলাপীর হওয়ার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া, ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবাইদুল হক রাসেল, মীর আমিনুল ইসলাম, মুর্শিদা জামান বেল্টু তাদের এক পার্সেন্ট ভোটার সমর্থন তালিকায় সঠিক তথ্য না থাকার কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

জানা যায়, জেলার সংসদীয় চারটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৭ জন প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। শনিবার যাচাই-বাছাই শেষে ২৩ জন বৈধ মননীত প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসন থেকে বৈধ প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন—আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান, (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী), মনিকা আলম (জাতীয় পার্টি), সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, মার্কসবাদী), মো. আসাদুজ্জামান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) ও মো. মতিয়ার রহমান (এবি পার্টি), এ ছাড়া, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুণ্ডু) আসন, এই আসনে বৈধ প্রার্থী ছয়জন। তারা হলেন—মো. আব্দুল মজিদ (বিএনপি), আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), এইচএম মোমতাজুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সাওগাতুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি), মো. আবু তোয়াব (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি), আসাদুল ইসলাম আসাদ (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, বাসদ)।

ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে বৈধ প্রার্থী পাঁচজন। তারা হলেন—মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (বিএনপি), অধ্যাপক মতিয়ার রহমান (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), মাও. সারোয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. সুমন কবির (গণঅধিকার পরিষদ, জিওপি) ও মুজাহিদুল ইসলাম (আমার বাংলাদেশ পার্টি)।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে বৈধ প্রার্থী ছয়জনের মধ্যে রাশেদ খাঁন (বিএনপি), সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (স্বতন্ত্র/বিএনপি), মুর্শিদা খাতুন (সতন্ত্র/বিএনপি), আহমদ আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. আবু তালিব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু (জাতীয়পার্টি), ওবায়দুল হক রাসেল (স্বতন্ত্র), খনিয়া খানম (গণফোরাম), মীর আমিনুল ইসলাম (স্বতন্ত্র)।

ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আবুল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ চারটি আসনে ২৭ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আজ তাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে সঠিক তথ্য না থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন/এএমকে