শ্মশানের নামকরণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, সৎকারে বাধা দেওয়ায় উপজেলা পরিষদে বিক্ষোভ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বিরোধের জেরে এক হিন্দু নারীর সৎকার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্মশানের দায়িত্বরত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বজন ও স্থানীয়রা মরদেহ নিয়ে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভ চলে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। এরপর ওই নারী সৎকার সম্পন্ন হয়।
নিহত নারীর নাম মিনা বনিক (৫৫)। তিনি ঝিকিরা গ্রামের প্রয়াত গণেশ বনিকের স্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, উপজেলার ঘোষগাতি এলাকার একটি শ্মশানের নামকরণকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আগে এর নাম ছিল ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’। গত বছরেরই ৫ আগস্টের পরে শ্মশানটি ঘোষগাতি এলাকায় হওয়ায় স্থানীয়রা নতুন করে নামকরণ করেন ‘ঘোষগাতি মহাশ্মশান’। এই পরিবর্তনকে ঘিরেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে মিনা বনিক মারা যান। মৃত্যুর পর সৎকারের বিষয়টি জানাতে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাইকিং করার সময় ‘ঘোষগাতি মহাশ্মশান’ না বলে ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’ এ সৎকার হবে বলে প্রচার করা হয়। পরে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সৎকারের প্রস্তুতির জন্য স্বজনেরা ঘোষগাতি মহাশ্মশানে চাবি চাইতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাবলু ভৌমিক চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
বিজ্ঞাপন
স্বজনদের অভিযোগ, বাবলু ভৌমিক তাদের বলেন, এখানে নয়, উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে নিয়ে গিয়ে সৎকার করতে হবে। এটা ‘ঘোষগাতি মহাশ্মশান’, ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’ নয়। তবে কাগজপত্রে এখনো ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’ নামেই রয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে নিহত নারীর পরিবার ও স্থানীয়রা মরদেহ নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরে শ্মশানের চাবি দেওয়ার হয় এবং সৎকার কাজ সম্পন্ন হয়।
নিহতের ভাইপো সুকদেব সাহা এবং রাজেশ কুমার সাহা বলেন, আমাদের চাচির সৎকারে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে বিভেদ সৃষ্টি করতে বাবলু ভৌমিক শ্মশানের চাবি দেননি। বাধ্য হয়ে আমরা মরদেহ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে এসেছি।
এ বিষয়ে বাবলু ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আমি ফোনে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। ওই নারীর সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।
নাজমুল হাসান/আরকে