ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, আয়-ব্যয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। হলফনামায় আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম তার বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৭০০ টাকা দেখিয়েছেন।

অস্থাবর সম্পদ

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের নিজ নামে নগদ টাকা রয়েছে ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৪২২ টাকা ও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৬ টাকা। খৈয়ম ও তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৪টি পৃথক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তবে অ্যাকাউন্টে ব্যাংক জমার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া, রাজবাড়ী জুট মিলে খৈয়মের ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার, অরিয়ট জুট মিলস লি.-এ ২০ লাখ টাকার শেয়ার, টেন ফোল্ড ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকা ও মেসার্স অরিয়ট ক্রাফটস ফার্ম নামের প্রতিষ্ঠানে ১০ লাখ টাকার শেয়ার কেনা রয়েছে। খৈয়মের স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা রয়েছে। এ ছাড়া, স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬২ লাখ টাকার ১ টি মোটরযান।

হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের মধ্যে খৈয়মের ১৫ হাজার টাকার স্বর্ণ (অর্জনকালীন মূল্য) ও স্ত্রীর নামে স্বর্ণের গহনা রয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০ টাকার। এ ছাড়া, খৈয়মের ৯৫ হাজার টাকা দামের দুটি এসি, স্ত্রীর নামে ৪০ হাজার টাকার ফ্রিজ ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের খাট ও আলমারি রয়েছে। খৈয়মের একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে যারা মূল্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৮ হাজার ৪২২ টাকা। বর্তমানে যার আনুমানিক মূল্য হলফনামায় দেখানো হয়েছে ৫ কোটি টাকা। খৈয়মের স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৮০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৩৬ টাকা, যার বর্তমান মূল্য হলফনামায় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদ

হলফনামায় দেখা গেছে, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের নামে কোনো কৃষি জমি নেই। ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১১ হাজার ৬৬৭ টাকা। এই জমিতে ৬ষ্ঠ তলা ভিতসহ যৌথভাবে ২ তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যার ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে রাজবাড়ী শহরে পুরাতন বাড়িসহ একটি জমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৯ লাখ ৬১ হাজার ১০৪ টাকা।

হলফনামায় খৈয়মের নামে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১টি ফ্লাট রয়েছে, যার মূল্য হলফনামায় ৭৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৯ টাকা দেখানো হয়েছে। তার মৎস্য চাষে বিনিয়োগ রয়েছে ১০ লাখ টাকার। খৈয়মের মোট স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ২১৬ টাকা। যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া, তার স্ত্রীর নামে মোট স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৬১ হাজার ১০৪ টাকা, কিন্তু যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

হলফনামায় খৈয়মের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে দায়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৭১ হাজার ২৪০ টাকা। তার স্ত্রীর নামে হাউজবিল্ডিং লোন রয়েছে ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫২ টাকা ও এনআরবি ব্যংকে ব্যক্তিগত লোন রয়েছে ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া, তার শেয়ার থাকা রাজবাড়ী জুট মিলস লি. এর নামে ২৫৭.৭৭ কোটি টাকা ও অরিয়েট জুট মিলস লি.-এর ৩৭ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৪৫ টাকা ৫০ পয়সা ঋণ রয়েছে।

২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, খৈয়মের মোট আয় দেখানো হয়েছে ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৭০০ টাকা। আয়কর বিবরণীতে তার মোট সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৯৪ টাকা। এর বিপরীতে তিনি ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

তার স্ত্রীর মোট আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৭৮৮ টাকা। আয়কর বিবরণীতে তার মোট সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৮ টাকা। এর বিপরীতে তিনি ৩৭ হাজার ৫৩৩ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

এ ছাড়া, সন্তানের মোট আয় দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ২২ হাজার টাকা। আয়কর বিবরণীতে তার মোট সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৬২ হাজার ৮ হাজার ৯৭০ টাকা। এর বিপরীতে তিনি ৩২ হাজার ২০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

হলফনামায় পেশা হিসেবে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ব্যবসা এবং তার স্ত্রী শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরে গেছেন সেটা উল্লেখ করা হয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এমএসএস পাশ ও বয়স ৬৮ বছর দেখানো হয়েছে হলফনামায়। তার নামে রাজবাড়ী ও ঢাকার আদালতে ৪টি মামলা ছিলো। যা থেকে তিনি অব্যহতি পেয়েছেন মর্মে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এএমকে