আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দলটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে তিনি এই আহ্বান জানান।

এর আগে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনের আলোচিত প্রার্থী এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ একইভাবে সমর্থকদের কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে- ডা. তাসনিম জারা ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের দেখানো পথেই হাঁটলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ। নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বিকাশ পার্সোনাল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রকাশ করেন। 

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, প্রিয় হাতিয়াবাসী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসন থেকে আপনাদের প্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরই প্রেক্ষিতে আজকে একটি স্পষ্ট বিশ্বাস ও নৈতিক অঙ্গীকার আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আমি এমন একটি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি যেখানে ক্ষমতার চেয়ে মানুষ বড়, স্বার্থের চেয়ে সততা বড় এবং প্রভাবের চেয়ে ইনসাফ বড়। উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, ভবন বা অবকাঠামো নয়— উন্নয়ন মানে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা। যেখানে ন্যায়বিচার থাকবে, বৈষম্য থাকবে না এবং জনপ্রতিনিধি সর্বদা জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে। 

আব্দুল হান্নান মাসউদ আরও লেখেন, আমি শুরু থেকেই একটি বিষয় পরিষ্কার রাখতে চেয়েছি— আমার রাজনীতি কোনো ব্যক্তি, কোনো ব্যবসায়ী কিংবা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অর্থে পরিচালিত হবে না। কারণ বড় অঙ্কের অর্থ প্রায়ই বড় শর্ত নিয়ে আসে, যা ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। আমি চাই না হাতিয়ার মানুষের অধিকার কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে আপসের শিকার হোক, কিংবা একজন জনপ্রতিনিধির ওপর কোনো অদৃশ্য ঋণের চাপ থাকুক। যার অর্থে রাজনীতি চলে, শেষ পর্যন্ত রাজনীতি তার কথাই শোনে— আমি চাই আমার রাজনীতি শুনুক কেবল হাতিয়ার সাধারণ মানুষের কথা। 

তিনি লেখেন, এই কারণেই আমি আপনাদের কাছ থেকেই সমর্থন ও সহযোগিতা চাইছি। আপনাদের ছোট ছোট অবদান শুধু একটি নির্বাচনী প্রচারণার খরচ নয়, এটি একটি নৈতিক অবস্থান, একটি বার্তা— যে হাতিয়ার মানুষ নিজের প্রতিনিধি নিজেই গড়ে তুলতে চায়। এই অংশগ্রহণ আমাকে ভবিষ্যতে আপনাদের কাছে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর নৈতিক অধিকার দেবে, আর সেটাকেই আমি একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি মনে করি। 

কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে চান উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ লেখেন, আমি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনারা যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আমার পাশে দাঁড়াবেন, তার জবাব আমি দেব কাজ দিয়ে, কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়। হাতিয়ায় ইনসাফভিত্তিক, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন উন্নয়নের যে স্বপ্ন আমি দেখছি, তা বাস্তবায়ন সম্ভব কেবল আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণেই। আসুন আমরা একসাথে প্রমাণ করি— সৎ রাজনীতি এখনো সম্ভব, আর তা সম্ভব জনগণের শক্তিতেই। হাতিয়ার মর্যাদা, ন্যায় ও ভবিষ্যতের জন্য আপনাদের পাশে চাই। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো অঙ্কের অনুদান আমাদের এই লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের আমানতের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমি স্বচ্ছতার সাথে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব,ইনশাআল্লাহ। 

হান্নান মাসউদ তার ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী তাই সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন চাচ্ছি। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে হাতিয়ার উন্নয়নের জন্য, পরিবর্তনের জন্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রাপ্ত অর্থের পূর্ণ হিসাব এবং কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, জানা গেছে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।  বৈধ প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আব্দুল হান্নান মাসউদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো. মাহবুবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন রাজিব। 

এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম. নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদ থেকে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

হাসিব আল আমিন/আরএআর