“ইসলামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার চেয়ে বড় কিছু নেই। কেউ যদি মৃত্যুকে ভয় না করে ইনসাফের পথে দাঁড়ায়, তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তিরই তার সামনে দাঁড়ানোর সাহস থাকে না। শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা গেছে, কিন্তু লক্ষ ওসমান হাদির জন্ম হয়েছে।”

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বাউফল পৌর জামায়াত আয়োজিত শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তিনি বলেন, “শরীফ ওসমান বিন হাদি কোনো বড় দলের নেতা ছিলেন না, বড় কোনো পদেও ছিলেন না। মাত্র ৩২ বছরের একজন যুবক পুরো পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি প্রমাণ করে গেছেন বয়স, শরীর, দল, নেতা কিংবা অবস্থান নয়; মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার কর্ম। কর্ম দিয়েই মানুষ বড় হয়, আর সেই দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদি।”

ভোটাধিকার নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এখন শোনা যাচ্ছে মা-বোনদের ভোট দিতে যেতে দেওয়া হবে না। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি যেমন ইনসাফের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন, তেমনি আমাদের মা-বোন ও ভাইদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যদি জীবন দিতে হয়, তাতে আমার নিজের জীবন দিতেও আমি প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি নিজের শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। যারা গালাগাল করে, মা-বোনদের হুমকি দেয়—আমাদেরও উচিত সেই জালিমদের সঙ্গেও ইনসাফ করা।”

জামায়াতের এ নেতা বলেন, “যাদের অন্তরে শাহাদাতের তামান্না থাকে, তাদের একজনকে হত্যা করা যায়; কিন্তু তার বিপরীতে লক্ষ-কোটি ওসমান হাদির জন্ম হয়। আমাদের ঠেকাতে কেউ এলে বাউফলে অন্যায়ের প্রতিবাদে আরও লক্ষ মানুষের জন্ম হবে। আগামী দিনে মানুষের মন জয় করেই এই দেশ পরিচালনা করা হবে।”

এ সময় তিনি সরকারের কাছে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যতদিন পর্যন্ত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হবে, ততদিন চলমান আন্দোলনে আমাদের পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত থাকবে।”

এসময় বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এমটিআই