সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষা দিতে এসে বাবার মৃত্যুসংবাদ পান এক পরীক্ষার্থী, তবুও কান্না আর শোক সামলে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর নাম সালমা খাতুন। তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ মুন্সির মেয়ে।

এদিন দুপুরে যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল থেকে কামারখন্দ সিনিয়র ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসেন সালমা। বেলা সোয়া ১টার দিকে হঠাৎ করেই তিনি বাবার মৃত্যুর খবর পান। এ সময় দেড় বছরের শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার স্বামী ও আশপাশের পরীক্ষার্থীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে সবার পরামর্শে মানসিক যন্ত্রণা নিয়েই তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন। সালমার স্বামী আলমগীর হোসেন বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে তার (সালমা) বাবা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে, তবে শেষ পর্যন্ত শোক নিয়েই পরীক্ষায় বসে।

কামারখন্দ উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, কামারখন্দ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩৯০ জন। এর মধ্যে ৩০৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ৮৬ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

কামারখন্দ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপাশা হোসাইন বলেন, উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাবার মৃত্যুজনিত কারণে পরীক্ষার্থী সালমাকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

মো. নাজমুল হাসান/এএমকে