হান্নান মাসউদের এলাকায় বিএনপি ও এনসিপির সংঘর্ষ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীভাঙন কবলিত একটি এলাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট-বালু সরিয়ে সড়ক মেরামতের কাজ করেন। পরে ওই সড়কে ইট-বালু না থাকায় এনসিপির কয়েকজন কর্মী বিএনপির নেতারা ইট-বালু বিক্রি করে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
ভিডিওটিকে বিএনপির সম্মানহানিকর দাবি করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সেটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নিতে বলেন। পরে ভিডিওটি সরানো হলেও বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশের দাবি ওঠে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।
বিজ্ঞাপন
এনসিপির যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা ঢাকা পোস্টকে বলেন, “চানন্দী ইউনিয়নের করিম বাজার এলাকার একটি পিচঢালা রাস্তা কেটে স্থানীয় বিএনপির নেতা সারোয়ার মাঝি, চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারি রবি আলম শান্তসহ অন্যরা ইট, বালু, পাথর ও পিচ বিক্রি করছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ ও এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিএনপির সশস্ত্র লোকজন তাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়।”
ইউসুফ রেজা আরও বলেন, “হামলায় চানন্দী ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন, হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন ও আরিফ হোসেন, ছাত্রশক্তির নেতা রবিন, এনসিপির জাফের, দুলাল, শাহাদাতসহ সাধারণ মানুষ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন রক্তাক্ত হন। এ সময় বিএনপির লোকজন এনসিপির প্রায় আটটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
এদিকে এনসিপির অভিযোগ অস্বীকার করে হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা ইয়াসিন আলী সুজন বলেন, “ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি থেকে বর্তমানে এনসিপি নেতা হওয়া রিপনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”
সুজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “দরবেশ বাজার এলাকায় বালু ব্যবসায়ী জাকের ব্যাপারী ও ইঞ্জিনিয়ার তানভীরের সহযোগী পারভেজ স্থানীয়দের দাবির মুখে বালু পরিবহনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করছিলেন। এ সময় এনসিপির লোকজন ভিডিও ধারণ করে বিএনপির বিরুদ্ধে মাটি বিক্রির অপপ্রচার চালায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে এনসিপির সমর্থকরা মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। এতে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন।”
তিনি আরও বলেন, “চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি নূর আলম রিপন (বর্তমানে এনসিপি নেতা) এর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে সারোয়ার (৫২) ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারু (৫৫) গুরুতর আহত হন। আহতদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেন, “চানন্দী ইউনিয়নের করিম বাজারের একটা পিচ ঢালাই রাস্তা কেটে ইট, বালি, পাথর,পিচ সব বিক্রি করে দিচ্ছে স্থানীয় বিএনপির সারোয়ার মাঝি ও ছাত্রদলের নেতা সারোয়ার ও রবিসহ অন্যান্য নেতারা। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণসহ এনসিপি নেতারা প্রতিবাদ করে যখন ফিরছিলো, তখন পথে বিএনপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে এনসিপি ও সাধারণ মানুষসহ সর্বমোট ১০জন রক্তাক্ত হয়। তারা এ দ্বীপের মাটি বিক্রি করে খায়। আর আমরা মাটি রক্ষায় রক্ত ঝরাই। তাদেগর দ্বীপহাতিয়ার মানুষ জবাব দেবেই। ইনশাআল্লাহ!”
ঘটনার বিষয়ে হান্নান মাসউদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, “রাস্তা কাটার মাধ্যমে ইট-বালু বিক্রির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের এমপি প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান শামীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, “বিএনপির সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। সেখান থেকেই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাসিব আল আমিন/এমটিআই