দুর্ঘটনায় ৭ স্বজন হারানো প্রবাসী বাহারকে ৩৫ লাখ দিলো বিআরটিএ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ওমান প্রবাসী মো. বাহার উদ্দিনকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট (বুধবার) ভোরে ওমান থেকে লক্ষীপুরের বাড়িতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বেগমগঞ্জে মাইক্রোবাস খালে ডুবে গিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ ৭ জনকে হারান।
নিহতরা হলেন- ওমান প্রবাসী বাহারের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), তার মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানি ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯) ও লামিয়া আক্তার (৮) এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)। তারা সবাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়ির বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিহত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকার অনুদানের চেক হিসেবে মোট ৩৫ লাখ দেওয়া হয়। বিআরটিএ সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলায় দুর্ঘটনায় নিহত ২০ জনের পরিবার ও আহত ১ জনসহ মোট ২১টি পরিবারকে এক কোটি এক লাখ টাকা এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় নিহত ১১ জনের পরিবার ও আহত ৯ জনসহ ২০টি পরিবারকে ৬৪ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ৪১টি পরিবারের মধ্যে মোট এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় বাহার উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার মতো কেউ যেন ভুল না করে। একটা দুর্ঘটনায় আমার সব উলোটপালোট হয়ে গেছে। তারপরও বিআরটিএ আমার পাশে থাকায় আমি কৃতজ্ঞ।
এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের মূল্য কখনো টাকায় হয় না। তবে আমরা সবাই সচেতন হলে এমন দুর্ঘটনা কমে আসবে। সেই জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমি আমানতের জায়গা থেকে নিজে এসে এই সহমর্মিতা হিসেবে চেক গুলো তুলে দিচ্ছি।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য অসচেতনতা ও নিয়ম না মানার কারণে পরিবারগুলো চিরতরে সর্বস্ব হারাচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিআরটিএ পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) রুবাইয়াৎ-ই-আশিক, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফু্দ্দিন মাহামুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পুলক চাকমা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য বাহার উদ্দিন, নোয়াখালী জেলা মালবাহী ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের মো. আবুল বাহার, বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি গোলাম রাব্বানীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথোয়াইনু চৌধুরী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সুজিত রায়, মোটরযান পরিদর্শক মো. মোশাররফ হোসেন ও মো. জিয়াউর রহমান, বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিআরটিএ নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
হাসিব আল আমিন/আরএআর