কর অঞ্চল রংপুরে ২৯ দিনে ৮৫ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। যা গত বছর ছিল ৭৮ হাজার। আয়কর রিটার্ন দাখিলের গেল ২৯ দিনে ২৮ কোটি টাকা অর্জিত হয়েছে। গত বছর একই সময়ে অর্জিত অর্থের পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকালে রংপুর কর ভবন প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন রংপুর অঞ্চলের কর কমিশনার আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেন।

জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে কর অঞ্চল রংপুর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘আমরা স্বাবলম্বী হব, সকলে কর দিব’ স্লোগানে গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের আজ সমাপনী দিন।

এ প্রসঙ্গে কর কমিশনার আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেন বলেন, লক্ষ্য অনুযায়ী আজ শেষ দিনে আরও ১৪ কোটি টাকা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনার প্রভাব কাটিয়ে এ বছর করদাতাদের উৎসবমুখর উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রংপুর কর অঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু, রংপুর ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুম খান। সভাপতিত্ব করেন রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত কর কমিশনার মঞ্জুর আলম।

আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার (প্রশাসন) সৈয়দ নূরুল হুদা, উপ-কর কমিশনার (প্রায়োগিক) রাউফুর রহমান, সার্কেল-৩ রংপুরের উপ-কর কমিশনার কর্নেলিউস কামা, সার্কেল-১৩ (বৈতনিক) এর উপ-কর কমিশনার তাজ মোহাম্মাদ তরফদার প্রমুখ।

এর আগে সকালে কর ভবন চত্বরে বেলুন উড়িয়ে জাতীয় আয়কর দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে একটি র‌্যালি কর ভবনের প্রধানফটক পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে অতিথিদের নিয়ে কেক কাটেন কর কমিশনার ও অন্য কর্মকর্তারা।

এদিকে সমাপনী দিনে কর ভবন চত্বরে নানা শ্রেণিপেশার করদাতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে রিটার্ন দাখিল করছেন করদাতারা। সরাসরি রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি অনেক করদাতাকে অনলাইনেও রিটার্ন দাখিল করতে দেখা গেছে। আবার নানা কর্ম ব্যস্ততায় এখনো অনেকে রিটার্ন দাখিল করতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে গাইবান্ধা ছাড়া বাকি সাত জেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে রংপুর কর অঞ্চল। এর আওতায় পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলা রয়েছে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমএসআর