রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রার যাত্রায় শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাসে (জুলাই) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৬৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। 

জুলাই মাসে ৭.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক সেক্টরে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১৬ হাজার ৫২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০২১- ২২) একই সময়ে ১৫ হাজার ৩৪৪ দশমিক ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল এনবিআর।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে শুল্ক-কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে সাত দফা পরিকল্পনা নেয় সংস্থাটি। তবে রাজস্ব আদায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ইতিবাচক প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৬ হাজার ৭৬৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ৬২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৯১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। 

অন্যদিকে জুলাইয়ে ৮ হাজার ২১৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মূসক বা ভ্যাট খাতে আহরণ ৫ হাজার ২১ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা কম। চলতি অর্থবছরের স্থানীয় পর্যায়ে মূসক আদায়ে মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। 

আর জুলাইয়ে আয়কর ও ভ্রমণ কর এসেছে ৪ হাজার ৭৩২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।  সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে তিন বিভাগে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার ৮০ দশমিক ২৫ শতাংশ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে এনবিআর। 

চলতি অর্থবছরে (জুলাই-জুন) এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। 

গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১৬.০৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও বছর শেষে ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। 

আরএম/ওএফ