বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও ডলার সংকটের কারণে গত বছরের আগস্টে স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি বন্ধ করে দেয় সরকার। যার প্রভাব পড়ে দেশের শিল্প খাতে। গ্যাস সংকটের কারণে অধিকাংশ শিল্পের উৎপাদন কমে যায়। এ অবস্থায় শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আবারও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন ২০২১’-এর আওতায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। যা ২০২৩-এর প্রথম এলএনজি আমদানির অনুমোদন।

জানা গেছে, ফরাসি কোম্পানি টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার বিজনেস সার্ভিস এলএনজি আমদানির ঠিকাদারের দায়িত্বে রয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত মোট ১২ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রথম কার্গোটি আসবে এই ফেব্রুয়ারিতেই।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এলএনজি ডিভিশনের মহা-ব্যবস্থাপক শাহ আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ থেকে ২২ তারিখের দিকে প্রথম কার্গোতে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসবে (১ টন এলএনজি-৪৮৬৯০ কিউবিক ফিট)। প্রতিদিন ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। ১০ থেকে ১২ কার্গো গ্যাস আমদানি করা হবে। গ্যাসের মূল্য যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে কার্গো আমদানির পরিমাণ সামনে বাড়ানো হবে।

প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় ২০১৯ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে ওই বছর ৬৩ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়। ২০২০ সালে খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। সে সময় প্রতি ইউনিট এলএনজির মূল্য ছিল ৬ থেকে ৭ ডলার। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম পৌঁছায় ৬২ ডলারে

এলএনজি আমদানির বিষয়টিকে ইতিবাচক বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, সংকটের সময়ে এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত। এ গ্যাস না আনা হলে কিছুদিনের মধ্যে গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করত। এবার এলএনজিকে যথাযথ বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি যেন প্রয়োজনীয় গ্যাস পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আরও পড়ুন : গ্যাস সংকটে নাকাল শিল্প, অনুসন্ধান-উত্তোলনে স্থবিরতা

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কয়লার ওপর জোর দিতে হবে। নাহলে আমদানিকৃত গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।

প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় ২০১৯ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে ওই বছর ৬৩ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়। ২০২০ সালে খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। সে সময় প্রতি ইউনিট এলএনজির মূল্য ছিল ৬ থেকে ৭ ডলার। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম পৌঁছায় ৬২ ডলারে। দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের আগস্ট থেকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা বন্ধ করে দেয় সরকার

ওএফএ/এসকেডি/জেএস