অবৈধভাবে ঋণ সুবিধা দিয়ে প্রায় ৫০৭ কোটি ৫১ লাখ ৪১ হাজার ৩৪১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের এমডি এবং ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন। 

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকিং আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ঋণ অনুমোদন, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ ডমেস্টিক ইউনিটে রূপান্তর, শ্রেণিকরণযোগ্য ঋণ পরিশোধে নতুন ঋণ সৃষ্টি করে এবং অযৌক্তিকভাবে সাত বছর মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহককে অবৈধ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করলে তা পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। 

মামলায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান শাখার শাখা ব্যবস্থাপক গাউস-উল-ওয়ারা মোর্তজা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রেডিট ইনচার্জ (বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ডিভিশন, সেন্ট্রালাইজড অপারেশন ডিভিশন) প্রতাপ কুমার দেশমুখ্য, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার অপারেশন (বর্তমানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট) মো. অলিউল্লাহ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার (বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মতিউল হাসানকেও আসামি করা হয়েছে অনুমোদিত মামলায়।

এছাড়া ব্যাংকের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমানে ক্রেডিট ডিভিশনে কর্মরত) মো. আব্দুল কাদের, সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমানে প্রধান শাখার ক্রেডিট ইনচার্জ) মো. বাবর আলী মোল্লা, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রেডিট ইনচার্জ মো. ইকরামুল ইসলাম খান, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান শাখার শাখা প্রধান (বর্তমানে চিফ অপারেটিং অফিসার) মো. আব্দুল হালিম এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফরেন ট্রেড ইনচার্জ (বর্তমানে প্রধান শাখার ম্যানেজার অপারেশন) মো. আতিকুর রহমানের নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।

আরএম/এমজে