চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আত্মবিশ্বাসী উত্থান
‘ইউসিবি নাইটে’ রেকর্ড সাফল্যের উদযাপন
এক তরুণ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অনেক দিন পর সস্ত্রীক অনুষ্ঠানে এসেছেন। পরিচিত ব্যবসায়ী বন্ধুদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন, গল্প করছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি খুব খুশি। তার ভাষায়, ‘যে ব্যাংকে এত বছর ধরে লেনদেন করছি, সেই ব্যাংকের এমন মিলনমেলায় না এসে পারা যায়?’
অন্যদিকে, ব্যস্ততা পেছনে ফেলে উত্তরা থেকে আসা এক চিকিৎসক দম্পতির কাছে এটি ছিল বিনোদনের পাশাপাশি আস্থার প্রকাশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সরকারি-বেসরকারি নানা পেশার এমন শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকার র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের পুলসাইড ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপলক্ষ একটাই—চ্যালেঞ্জ জয় করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প ‘ইউসিবি নাইট– দ্য বিগিনিং অব এ নিউ এরা’ উদযাপন।
বিজ্ঞাপন
দেশের ব্যাংকিং খাত যখন চাপ, অনিশ্চয়তা আর আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই অভাবনীয় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। নানা বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০২৫ সালে ইউসিবি যে রেকর্ড সাফল্য অর্জন করেছে, তা ব্যাংকটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এই অর্জন উদযাপন এবং দীর্ঘদিনের গ্রাহক, স্টেকহোল্ডার ও শিল্প-সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই ইউসিবির এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর একে একে মঞ্চে উঠে আসে গীতি আলেখ্য—দৃঢ়তা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, জনপ্রিয় শিল্পী হাবিব ওয়াহিদের গানসহ নানা আয়োজন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল—ইউসিবি ভিসা ইনফিনিট কার্ড ও ইউসিবি মাস্টার কার্ড ওয়ার্ল্ড এলিট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আধুনিক ও প্রিমিয়াম ব্যাংকিং সেবার নতুন এই উদ্যোগ অতিথিদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে।
সংগীত আর আলোর ঝলকানির মধ্যেই তুলে ধরা হয় ইউসিবির বাস্তব সাফল্যের গল্প। ২০২৪ সালে যেখানে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ৪,০৮২ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে—যা ইউসিবির ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি।
গ্রাহক আস্থার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৪ সালে যেখানে ৪.১১ লাখ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, ২০২৫ সালে সেখানে ৬.৭৮ লাখ নতুন গ্রাহক ইউসিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সংখ্যাগুলোই বলে দেয়—ইউসিবির ওপর মানুষের বিশ্বাস আবার দৃঢ় হয়েছে।
একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এডভান্স টু ডিপোজিট রেশিও ৯১.৩ শতাংশ থেকে কমে ৮৩.০ শতাংশে নামা ব্যাংকটির তারল্য ও স্থিতিশীলতারই প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, ‘চার দশক ধরে যা তৈরি করেছি, ইনশাল্লাহ, আপনাদের অব্যাহত সমর্থনে আগামী চার বছরে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারব।’
ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট: প্রথমে স্থিতিশীলতা, এরপর আস্থা, আর তার পর টেকসই বৃদ্ধি।’
সংগীত, আলোর উৎসব আর বৈচিত্রময় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজন ছিল এক ধরনের আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা। কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার গান এবং পরে প্রীতম ও দোলা–র প্রাণবন্ত পরিবেশনা উৎসবের আমেজকে আরও গভীর করে তোলে।
‘ইউসিবি নাইট’ তাই কেবল একটি আনন্দের সন্ধ্যা নয়। এটি ছিল সংকট পেরিয়ে ফিরে আসা এক ব্যাংকের দৃঢ় উচ্চারণ—ইউসিবি আবার দাঁড়িয়েছে, এবং এবার আরও শক্তভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
এমএসএ