বৃষ্টিতে ভিজে পণ্য কিনে রাস্তা পার হচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি

দিনটা ছিল সোমবার। দিনের বিভিন্ন সময় রাজধানীতে ঝরেছে বৃষ্টি। টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে হেমন্তের এই বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে ষাটোর্ধ্ব আবুল কালামকে। নিত্যপণ্যের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সংসারের বাড়তি খরচে মেটাতে হিমশিম খাওয়া এ বৃদ্ধকে জ্বর-ঠান্ডার তোয়াক্কা না করেই ভিজতে দেখা গেল।  

দুপুরের দিকে গুলশান-১ এর গুদারাঘাট এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিল টিসিবির ট্রাকটি। আর ট্রাকের পেছনে আবুল কালামের মতো আরও কয়েকশ মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা কেউই বৃষ্টির তোয়াক্কা করেননি। রাজধানীতে সময়ে অসময়ে বৃষ্টি আকাশ ভেঙে নেমে এলেও নামে না নিত্যপণ্যের দাম। তার তাই বৃষ্টিতে ভিজে কম দামে পণ্য কেনার অপেক্ষা। 

ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে আবুল কালাম বলেন, সব পণ্যের দাম বেশি। এখানে (টিসিবির ট্রাকে) একটু কম দামে তেল-পেঁয়াজ কেনা যায়। লাইনে দাঁড়ানোর পরই বৃষ্টি নামল। কী আর করা, ভিজেই কেনাকাটা করলাম। তা না হলে পেছনে পড়ে যেতে হবে। তখন দেখা যাবে পণ্যই পাব না, শেষ হয়ে যাবে।

বৃষ্টিতে ভিজে যদি জ্বর আসে, তখন কী করবেন- জানতে চাইলে ছলছল চোখে এ বৃদ্ধ বলেন, কী করব? অবস্থা খুবই খারাপ। যে টাকা আয়, তাতে এখন আর সংসারের খরচ হয় না। বাজারে আলু-পেঁপে ছাড়া কিছু কেনা যায় না। সব কিছুর দাম বেশি। খুব কষ্টে আছি।

বৃষ্টিতে ভিজে পণ্য কিনতে দীর্ঘ সারি

গত এক মাস ধরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম, মুরগি, সবজিসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর এ কারণেই আবুল কালামের মতো দেশের কোটি মানুষের এখন নাভিশ্বাস। সে কারণেই রোদ আর বৃষ্টি উপেক্ষা করেই টিসিবির ট্রাকের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘসারি। ট্রাক থেকে সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০, প্রতি কেজি চিনি ও ডাল ৫৫ ও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি হয়।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫২-১৫৫ টাকায়। দুই লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩১০ টাকায়। আর পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭২৮ টাকায়। এছাড়া বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৪০-১৪৮ টাকা, পামওয়েল ১৩৫-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ১৮ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, এখন রাজধানীতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৪৫-১৫৫ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ১৪০-১৫৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে লিটারপ্রতি বেড়েছে পাঁচ টাকা। আর এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪৩ টাকা। ২০২০ সালের একই সময়ে প্রতি লিটারের দাম ছিল ১০০-১১০ টাকা।

প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৩৫-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ছিল ১২৬-১৩৫ টাকা। মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে পাঁচ টাকা ৩৬ পয়সা, এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫২ টাকা। ২০২০ সালের একই সময়ে দাম ছিল ৮৮-৯৩ টাকা লিটার। পামওয়েল ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে যা ছিল ১১৮-১২৫ টাকা, আর এক বছর আগে দাম ছিল ৮২-৮৪ টাকা।
 
এসআই/আরএইচ