ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী পুঁজিবাজারের কার্যক্রম দেখ-ভালের জন্য ডিএসই ও সিএসইতে আগামী এক মাসের মধ্যে বিশেষ নিরীক্ষক বা অডিটর নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এছাড়াও দুই স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট আইন/বিধিবিধান তৈরি করে ১০ জানুয়ারির মধ্যে বিএসইসিতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন বছরে প্রথম কর্মদিবস রোববার দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি।

নিয়োগের পর অডিটর ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী পুঁজিবাজারের সামগ্রিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে। দুই পুঁজিবাজার কোন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেবে ও তার কাজের বিষয়ে বিএসইসির অনুমোদন নিতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জের চলমান কার্যক্রম, আচরণবিধি, নীতিনৈতিকতার চর্চা ইত্যাদি ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখাই হবে বিশেষ নিরীক্ষকের কাজ।

উল্লেখ্য, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজড হয়েছে আট বছর আগে। অথচ গড় লেনদেন আড়াই হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশ করাসহ ১২ পরিকল্পনার কোনোটিই বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। বিএসইসির বিশেষ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা যাতে পৃথক বিভাগ হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য দুটিকে আলাদা করা হয়েছিল। অথচ এর ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো মালিকরাই ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি করছেন।

ডিমিউচুয়ালাইজেশনের বিশেষ লক্ষ্য ছিল স্টক এক্সচেঞ্জকে লাভবান হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু মুনাফা বৃদ্ধির পরিবর্তে এখনো খুঁড়িয়ে চলছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে ডিএসইর পর্ষদ সমাপ্ত বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে মুনাফা হয়েছে ১১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। সে বছর ডিএসইর ইতিহাসে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মুনাফা হয়েছিল। দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রামের অবস্থা আরও নাজুক।

মুনাফা বাড়াতে ডিএসইর পরিকল্পনা ছিল দৈনিক লেনদেন হবে ন্যূনতম আড়াই হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে হাজার কোটি টাকারও কম।

পরিকল্পনা ছিল পুঁজিবাজারে মোট বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ আসবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। অথচ লক্ষ্যমাত্রার ধারের কাছেও নেই দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।

পরিকল্পনার আরেকটি ছিল- ভালো ভালো কোম্পানিসহ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়ানো হবে। পুঁজিবাজারের আকার ও গভীরতা বাড়াতে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও করপোরেট বন্ড, ইনডেক্স ফিউচারস, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড, সুকুক এবং ডেরিভেটিভের মতো নতুন নতুন বিনিয়োগ পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা। এসবের কিছুই হয়নি।

বিএসইসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারছেন না। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটিও হয়নি।

শুধু তাই নয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার বিক্রি করেছে। কিন্তু চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এখনো শেয়ার বিক্রি করে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনতে পারেনি। স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন শুধু কাগজে-কলমে হয়েছে।

ডিএসইর মুখপাত্র এম সাইফুর রহমান মজুমদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, আট বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে ডিএসইর তালিকাভুক্তির জন্য পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা আইপিওর পরিকল্পনা জমা দেব।

সিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. গোলাম ফারুক বলেন, বিএসইসির চিঠি পেয়েছি। আমাদের পরিচালনা পর্ষদের আগামী সভাতেই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএসইসির পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পরিপালনে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এমআই/এমএইচএস