সেশনজট সঙ্গী করেই অবশেষে ক্লাস শুরুর পথে সাত কলেজ
দীর্ঘ এক বছরের সেশনজট মাথায় নিয়ে অবশেষে সরকারি সাত কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সাত কলেজের সব বিভাগে একযোগে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচিতি সভা বা ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সভার মধ্য দিয়ে ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন) অধীনে ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সাত কলেজের নতুন ভর্তি হওয়া সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগে অংশ নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে শুরুতে কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে সামান্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। তিনি বলেন, শুরুর দিকে কিছু জায়গায় সমস্যা ছিল। তবে এখন একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি সামনে আর কোনো বড়ো ধরনের জটিলতা হবে না।
প্রথম বর্ষের পরীক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছিল। সেই বিবেচনায় বর্তমানে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রায় আট মাস সময় হাতে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই সেশনের ক্লাস শেষ করতে এই সময়টুকুই যথেষ্ট উল্লেখ করে অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস আরও বলেন, আমরা মনে করছি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের একাডেমিক ক্ষতি হবে না। প্রশাসন ও শিক্ষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেশনজট কাটিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষে ফিরে আসাই এখন মূল লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সরকারকে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বা ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে নতুন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করে। কলেজগুলো হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।
পরবর্তী সময়ে সরকারও বিষয়টি আমলে নিয়ে সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে নতুন একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। যার চূড়ান্তকরণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
আরএইচটি/জেডএস