ছবি: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরকারের কাছে পাওনা ২৩ কোটি ডলার আদায়ে বিশ্বব্যাংকভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশানাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসের (আইসিএসআইডি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তুরস্কের দুই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানি আল-বায়রাক এবং ওজপাক।

অভিযোগের কপি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার সচিবের কার্যালয় এবং পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের আওতাধীন লাহোর ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এলডব্লিউএমসি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে জানিয়েছে আল-বায়রাক ও ওজপাক কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে পাঞ্জাবের তৎকালীণ মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিয়ের আমন্ত্রণে লাহোর ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় আল বায়রাক এবং ওজপাক।

চুক্তিতে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঞ্জাবের লাহোরে অন্তত ৬০ কোটি টন বর্জ্য সংগ্রহের শর্ত দেওয়া হয়েছিল তুরস্কের এই দু’ কোম্পনিকে, বিনিময়ে তাদের পরিশোধ করার কথা ছিল ২৩ কোটি ডলার। এছাড়া বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা বিষয়ক সরঞ্জাম কেনার দায়িত্বও ছিল দুই কোম্পানির।

চুক্তির সময় শেষ হয়েছে তিন বছর আগেই; কিন্তু এখনও প্রাপ্য অর্থ পাকিস্তানের সরকার পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ আল বায়রাক ও ওজপাকের।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সরঞ্জাম ধার নিয়েছিল এলডব্লিউএমসি, কিন্তু সেগুলো এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি।

পাকিস্তান সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই সমস্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, ‘এটি একটি গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও এজন্য দায়ী বিগত সরকার। তবে আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই বন্ধুত্বপূর্ণভাবে এটির সমাধান হবে।’

এদিকে, গত প্রায় দু’বছর ধরে আর্থিক সংকট চলছে পাকিস্তানে এবং সময় যতো গড়াচ্ছে, এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে— তাতে বড়জোর আগামী দুই মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

এসএমডব্লিউ