ফাইল ছবি

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় ডুবে থাকা রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কিনতে চায় পাকিস্তান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকেই কম দামে রুশ তেল কিনছে ভারত। এবার ‘ভারতের দামেই’ তেল কিনতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে রয়েছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার। স্থানীয় সময় সোমবার সেখানে তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতকে যে হারে জ্বালানি সরবরাহ করছে সেই একই হারে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কিনতে প্রস্তুত পাকিস্তান।

তবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনলে পাকিস্তানকে পশ্চিমাদের রোষানলে পড়তে হবে কিনা এমন প্রশ্নর জবাবে ইসহাক দার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন বন্যার কারণে পাকিস্তান আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে। দেশের বিশাল এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এই পরিপ্রেক্ষিতে কম দামের তেল আমদানিতে পশ্চিমাদেরও কোনো আপত্তি থাকবে না বলে আশা করেন তিনি।

সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আগাম নির্বাচনের দাবিতে ইমরান পাকিস্তানজুড়ে সমাবেশ করছেন এবং সেসব সমাবেশে বিশাল সংখ্যক মানুষও অংশ নিচ্ছেন।

এছাড়া গত রোববার পাকিস্তানের আটটি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে সাতটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একাই ছয়টিতে জয়লাভ করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান। এতে করে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির ক্ষমতাসীন জোটকে রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপের মধ্যেই ফেলেছেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।

তবে এ নিয়ে খুব বেশি চাপ অনুভব করছেন না পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি বলছেন, পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের রাজনৈতিক ফ্রন্টে ফেরার যথেষ্ট সময় আছে। সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব পুনরুদ্ধার এবং জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য (সাধারণ নির্বাচনের আগে হাতে থাকা) ১০ মাসই যথেষ্ট।

গত রোববারের উপ-নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে পাকিস্তানের এই অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দু’টির মধ্যে একটি জিনিস বেছে নিতে হতো: হয় আমাদের রাজনীতি করতে হবে না হয় রাষ্ট্রকে বাঁচাতে কাজ করতে হবে। আমরা দ্বিতীয়টি বেছে নিয়েছি।’

পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইতোমধ্যেই বলেছেন- দেশে একটি শক্তিশালী কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষও প্রায়শই এটি স্বীকার করে।

এছাড়া বাইডেনের বক্তব্যে আগেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান

ইসহাক দার বলেন, ওয়াশিংটনে ৪ দিনের সফরে আমি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং অন্যান্য দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৫৮টি বৈঠক করেছি।’

টিএম