সাগরে ছোট ছোট নৌকায় করে ইন্দোনেশিয়ায় যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা -ফাইল ছবি

রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাড়িয়ে দিতে ২০১৭ সালে ভয়াবহ হামলা চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে ওই সময় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর তাদের ঠাঁই হয় শরণার্থী ক্যাম্পে।  

তবে শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে এখন সাগর পাড়ি দিয়ে মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ায় চলে যাচ্ছেন। তাদের একজন হলেন মুহাম্মেদ হাসুন। যিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য।

১৮ বছর বয়সী মুহাম্মদ হাসুন এক দালালের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন। দালালের হাতে তিনি যে অর্থ তুলে দিয়েছেন সেটি আবার নিজের বাবা-মায়ের মাধ্যমে ধার করেছেন তিনি।

মুহাম্মদ হাসুনের মতো যুবকরা শরণার্থী ক্যাম্প ছাড়ছেন কারণ ক্যাম্পের ভেতর উচ্চশিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি ক্যাম্পের মধ্যে যারা একটু শিক্ষিত তাদের হত্যাকাণ্ড বা অপহরণের শিকার হতে হয়। আর এসব বিষয় বিবেচনা করেই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ছোট নৌকায় করে ইন্দোনেশিয়ায় যাচ্ছেন যুবকরা।

তবে মুহাম্মদ হাসুনের এ যাত্রা সহজ ছিল না। নিজের সঙ্গে মাত্র কয়েকটি কাপড় নিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর মাঝ সমুদ্রে কাটিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে হাসুন বলেছেন, ‘আমি এখানে এসেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগের জন্য। আমি ফিজিক্স ও ম্যাথমেটিক্স পছন্দ করি। আমি কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করতে চাই। এটি আমার লক্ষ্য।’

বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার লোকসেমেউয়ে শহরের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে আছেন তিনি।

কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে তাদের উচ্চশিক্ষার কোনো সুযোগ দেয় না বাংলাদেশ। ফলে যাদের শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা আছে— তারা চাইলেও সেটি পারে না। আর এ কারণেই তরুণ ও যুবকদের মধ্যে ক্যাম্প ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে।

এএফপির সাংবাদিকরা গত সপ্তাহে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন তারা। নুরজাহান নামের এক তরুণী এএফপিকে বলেছেন, ‘আমাদের শিশুরা এখানে পড়তে পারে না। আমাদের দুর্ভোগের কোনো শেষ এখানে নেই। আমরা যেন দমবন্ধ অবস্থায় আছি। এমনকি আমরা দুর্দশার কথা ভেবে ঠিকমতো ঘুমাইও না।’

নুরজাহানও নৌকায় চেপে ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তাকে পরবর্তীতে আটকে দেয় পুলিশ।

এদিকে ১৪ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন ১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। বর্তমানে সমুদ্র নৌকা চলাচলের উপযোগী হওয়ায় সমুদ্রপাড়ি দেওয়ার প্রচেষ্টাও বেড়েছে।

সূত্র: এএফপি

এমটিআই