ছবি: বিবিসি

রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সেনাদের ফিরিয়ে আনা শুরু করলেও ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা এখনও পরিত্যাগ করেনি রাশিয়া; বরং অদূর ভবিষ্যতে কীভাবে ইউক্রেনে একটি ‘সফল’ হামলা পরিচালনা করা যায়, তারই ছক কষছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদর দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সরকার ও সামরিক বাহিনীর এই  আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সংলাপের ব্যর্থতার এক সপ্তাহ পর এই শঙ্কা প্রকাশ করল পেন্টাগন।

ইউক্রেনে সম্প্রতি যে ব্যাপক সাইবার হামলা ঘটল- সেদিকে ইঙ্গিত দিয়ে শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে জন কিরবি বলেন, ‘রাশিয়া নতুনভাবে ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। যে কোনো একটি অজুহাত সৃষ্টি করে দেশটির সেনাবাহিনী ইউক্রেনে প্রবেশ করতে চাইছে। সামরিক পরিভাষায় একে আমরা বলি ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন।’

সম্প্রতি এক সাইবার হামলায় ইউক্রেনের কয়েক ডজন সরকারি ওয়েবসাইট ধ্বংস হয়েছে। হামলার আগে সাইবার মাধ্যমে হ্যাকাররা ইউক্রেনবাসীর উদ্দেশে এক সতর্কবার্তায় বলেছিল, ‘নিকৃষ্টতম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হও।’ এই বার্তার এক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা হয় ওয়েবসাইটগুলোতে।

যুক্তরাষ্ট্র ও আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর উপকূলীয় দেশসমূহের সামরিক জোট ন্যাটো ইতোমধ্যে ব্যাপকমাত্রার এই হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে রাশিয়া এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে জন কিরবি আরও বলেন, পেন্টাগনের হাতে থাকা গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী,ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সহায়তা করতে গোপনে একটি বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত করছে রাশিয়া। এই বাহিনীর সদস্যরা শহর অঞ্চলে যুদ্ধ, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহারে পারঙ্গম।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের এই আশঙ্কাকে উদ্বিৃত করে বলা হয়, ইউক্রেনও রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জন কিরবির সংবাদ সম্মেলনের আগেই অবশ্য ইউক্রেনে ‘সম্ভাব্য হামলার’ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সুলিভান বলেছিলেন- ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখলের আগে রাশিয়া যেভাবে পরিকল্পনা সাজিয়েছিল, এখন ইউক্রেনের বিষয়েও সেই একই পথে হাঁটছে দেশটি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অবশ্য মার্কিন এই সংশয়কে ‘একেবারেই ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

গত নভেম্বরের শেষদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় লক্ষাধিক সেনা সদস্য মোতায়েন করেছিল রাশিয়া, যার জেরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ন্যাটো অভিযোগ তুলেছিল- খুব দ্রুতই ইউক্রেনে হামলা চালাতে যাচ্ছে দেশটি।

রাশিয়া অবশ্য বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এই অভিযোগ। তার পাশাপাশি এক মাস পর, ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে সেনাদের প্রত্যাহারও করা শুরু করেছে দেশটি। ইতোমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বিবিসি

এসএমডব্লিউ