লাশ পোড়ানোর মামলা : চতুর্থ দিনের মতো চলছে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানকে চতুর্থ দিনের মতো জেরা করছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা শুরু হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
বিজ্ঞাপন
জানে আলমকে আজ জেরা করছেন আসামি মো. শহিদুল ইসলামের আইনজীবী। নিজের মক্কেলের হয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক হওয়ায় গ্রহণ করেননি ট্রাইব্যুনাল। অর্থাৎ সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দির বাইরে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের একটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন তিনি। মামলা সম্পর্কিত বা জবানবন্দিতে উল্লেখিত বক্তব্য নিয়ে তাকে জেরা করতে বললেন আদালত।
প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, সাইমুম রেজা তালুকদার, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
বিজ্ঞাপন
রোববার (৪ জানুয়ারি) জেরা করেন আইনজীবী মিরাজুল ইসলাম। ২১ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফীর আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানের জেরা শুরু হয়। ২ ডিসেম্বর প্রথম দিনের মতো ২৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি। তার জেরা সম্পন্ন হলেই মামলাটি যুক্তিতর্কের ধাপে যাবে। সবমিলিয়ে ২২ কার্যদিবসে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামি হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনও পলাতক রয়েছেন।
চলতি বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হতে চেয়ে মামলার ব্যাপারে যা জানেন সব আদালতের কাছে বলতে চেয়েছেন। পরে তার দোষ স্বীকারের অংশটুকু রেকর্ড করা হয়। একইসঙ্গে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজসাক্ষী হওয়ার অনুমতি পান তিনি। ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এছাড়া এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
এমআরআর/জেডএস