রাতের খাবার সব সময় হালকা খাওয়ারই পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ রাতের বেলা ভারী খাবার ভালোভাবে হজম হয় না। অনেক সময় কোথাও দাওয়াতে গিয়ে রাতের খাবারটি ভারী হয়ে যেতে পারে, আবার অসতর্কতার কারণে এমন কোনো ভুলভাল খাবার আমরা খেয়ে ফেলি, যেগুলো রাতে খাওয়া ঠিক নয়।

যেকোনো ভুল অভ্যাসের প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরে। রাতে খাবার হজম হতে সময় বেশি লাগে। তাই রাতের খাবার গ্রহণের সময় সতর্ক হতে হবে। এমন কোনো খাবার খাওয়া যাবে না যা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। রাতে গুরুপাক খাবার খেলে গ্যাস, বুকজ্বালা ইত্যাদির কারণ হতে পারে। সেইসঙ্গে বদ হজমও হতে পারে। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই তিন খাবার সব সময় এড়িয়ে চলবেন-

কফি

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বাড়িতে ফিরে এক মগ কফি নিয়ে বসতে আপনার ভালো লাগতেই পারে। বিকেলে খাওয়া যেতে পারে, তবে রাতের বেলা বিশেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনো কফি খাবেন না। কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে উত্তেজিত করতে পারে। যে কারণে ঘুম আসতে চায় না। অনেকে আবার জেগে থাকার জন্য কফি খান। এটিও ক্ষতিকর অভ্যাস। এই অভ্যাস দিনের পর দিন চলতে থাকলে দেখা দিতে পারে ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতার মতো সমস্যা।

কোল্ড ড্রিংকস

রাতের খাবার খাওয়ার পর এক গ্লাস কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার অভ্যাস থাকে অনেকের। ফ্রিজে কোল্ড ড্রিংকস রাখা থাকে সব সময়। রাতের বেলা ভারী খাবার খাওয়া হলে অস্বস্তি থেকে বাঁচতে খেয়ে নেন এক গ্লাস কোল্ড ড্রিংকস। এতে মনে স্বস্তি মিললেও শরীরে সৃষ্টি হয় অসুবিধার। কোল্ড ড্রিংক আপনাকে সাময়িক শক্তি দিতে পারে। কিন্তু এর ভেতরে থাকা প্রচুর কার্বোনেটেড শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।

ফাস্ট ফুড

ফাস্ট ফুড এমনিতেই উপকারী কোনো খাবার নয়। এ ধরনের খাবার যতটা এড়িয়ে চলা যায়, ততই ভালো। বিশেষ করে রাতের বেলা ক্ষুধা পেয়েছে বলেই পিৎজা, বার্গার, মোগলাই, ইনস্ট্যান্ট নুডলস খেয়ে নেবেন না। এ ধরনের খাবার হজম হতে অনেকটা সময় নেয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যালোরিও প্রবেশ করে শরীরে। আর রাতের বেলা ক্যালোরি ঝরানোর কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে এ ধরনের গুরুপাক খাবার থেকে হতে পারে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। অস্বস্তির কারণে রাতে ঘুমও ভালো হয় না।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার

আমাদের শরীরের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ভিটামিন সি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই ভিটামিনের প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি। তবে যতটা সম্ভব দিনে খাবেন এই ভিটামিন যুক্ত খাবার। রাতের বেলা কখনো ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাবেন না। কারণ এতে অ্যাসিড হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় রাতে সব ধরনের ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকলে।