স্ট্রোক হলে তার লক্ষণ বুঝতে পারা এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে বা বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে স্ট্রোক হতে পারে। লক্ষণ বুঝতে পেরে দ্রুত চিকিৎসা নিলে ব্রেইন ড্যামেজ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। স্ট্রোকের কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিন যা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা দিতে পারে-

দুর্বলতা ও অসাড়তা

কেউ হঠাৎ দুর্বল অনুভব করার কথা বললে তা হালকাভাবে নেবেন না। সেইসঙ্গে যদি মুখের এক পাশে অসাড়তা অনুভব করে তবে মোটেই দেরি করবেন না। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এক্ষেত্রে কেবল মুখের এক পাশেই নয়, একটি পা অথবা একটি বাহুতেও অসাড়তা আসতে পারে। বিষয়গুলোর দিক খেয়াল করুন।

দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা হারানো

হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা হারানো স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ। ক্ষীণ শক্তি, অনুভূতি না থাকা বা কমে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, অন্যদের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে আর দেরি করবেন না। কারণ এগুলো স্ট্রোকের মারাত্মক লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেরি করলে এসব সমস্যা আরও বাড়তে পারে। যদি কেউ হঠাৎ চোখে ঝাপসা বা ম্লান দেখার কথা বলে, বিশেষ করে এক চোখে, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিন। যতটা মনে হতে পারে, এটি তার থেকেও গুরুতর।

হঠাৎ পড়ে যাওয়া

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ পড়ে গেলে বা নিজের ভারসাম্য রাখতে না পারলে বুঝতে হবে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সমস্যা হচ্ছে। হঠাৎ পড়ে যাওয়ার সঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি, জ্বর সবগুলো লক্ষণই কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে স্ট্রোকের আগে হেঁচকি ওঠা বা খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে। 

তীব্র মাথা ব্যথা

মাথা ব্যথা হলে কখনোই তা এড়িয়ে যাবেন না। যদি হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়া তীব্র মাথা ব্যথা অনুভব করেন তবে দ্রুত আশেপাশের কারও সাহায্য নিন। বেশিরভাগ স্ট্রোকের রোগীর ক্ষেত্রেই এই হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়। অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান হারানো বা মাথা ঘোরার সমস্যা উপেক্ষা করবেন না।

লক্ষণ বোঝার জন্য করণীয়

স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতে পারা এবং নিজের বা আশেপাশের অন্য কারও সঙ্গে এটি ঘটলে করণীয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে স্ট্রোক হয়েছে কি না। নিজের বা অন্য কারও ক্ষেত্রে স্ট্রোকের সন্দেহ হলে এই পরীক্ষাগুলো করতে হবে-

মুখ

আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসতে বলুন। তিনি হাসতে পারছেন নাকি তার মুখ ঝুলে যাচ্ছে সেদিকে খেয়াল করুন।

বাহু

আক্রান্ত ব্যক্তিকে দুই হাত তুলতে বলুন। তার উভয় হাত বা যেকোনো একটি হাত দুর্বল লাগলে কিংবা ঝুলে গেছে কিনা খেয়াল করুন।

কথা

আক্রান্ত ব্যক্তিকে কিছু পড়তে দিন বা সাধারণ কোনো বাক্য বলতে বলুন। তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কিনা অথবা অদ্ভুত শব্দ উচ্চারণ করছে কিনা সেদিকে খেয়াল করুন। 

সময়

যদি উপরের যেকোনো একটি লক্ষণও মিলে যায় তবে কোনোভাবেই সময় অপচয় করবেন না। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

লক্ষণ মিলে গেলে করণীয়

স্ট্রোক হলে পরবর্তী প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে যেকোনো সাধারণ গাড়িতে না তুলে সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা রোগীর অবস্থা দ্রুত এবং ভালো বুঝতে পারবেন। স্ট্রোকের ধরন বুঝে চিকিৎসকের ওষুধ কিংবা অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দেবেন। দ্রুত চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঝুঁকিমুক্ত হওয়া সম্ভব হতে পারে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে