জীবন সহজ করার জন্য অর্থের বিকল্প নেই। ভালোবাসা কিংবা যত্নের জন্যও প্রয়োজন পড়ে টাকার। কারণ একটি সম্পর্ক লালন করতে হলে পালন করতে হয় কিছু দায়িত্ব। আর সেজন্য টাকা দরকারী। সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে টাকার লেনদেন হলেও এই টাকাই কিন্তু অনেক সময় সম্পর্ক নষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের চারপাশেও এমন অনেকে আছে যারা টাকা ধার নিলেও ফেরত দেওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায়। টাকার জন্য পরিবার কিংবা দাম্পত্য সম্পর্কেও অনেক সময় দেখা দেয় অশান্তি। আপনি যদি দাম্পত্যজীবন সুখের রাখতে চান তবে সঙ্গীকে টাকা ধার দেওয়া বন্ধ করুন। জেনে নিন কী এর কারণগুলো কী-

সম্পর্কের বাড়তি চাপ তৈরি করে

সঙ্গী যদি সত্যি কোনো মুশকিলে পড়ে তবে সবার আগে আপনারই কর্তব্য থাকে এগিয়ে আসার। তার ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। কিন্তু যদি এমন হয় যে তার টাকার কোনো দরকার নেই, অযথাই ওড়ানোর জন্য কিংবা বাড়তি খরচ করার জন্য টাকা ধার চাইছে তাহলে দেবেন না। বোঝাই যাচ্ছে যে সে খুব একটা দায়িত্বশীল মানুষ নয়। আর তাই তো বাজে খরচের ক্ষেত্রেও পিছপা হয় না। আপনি যদি তাকে টাকা ধার দেন তবে তা পরবর্তীতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করবে।

বিরক্তি চলে আসতে পারে

আপনার সঙ্গী যদি সারাক্ষণ টাকা নেই, টাকা নেই বলতে থাকে তবে মায়ায় পড়ে তাকে ধার দিতে থাকবেন না। কারণ সে যদি পরিশ্রমী হয় তবে কোনো না কোনো উপায় বের করে নেবে। যদি সে সারাক্ষণ টাকা চাইতে থাকে তবে তার প্রতি বিরক্তি আসবেই। এভাবে চলতে থাকলে সম্পর্ক নষ্ট হতে বাধ্য।

সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়

সঙ্গীকে বারবার টাকা ধার দিতে থাকলে একটা সময় সম্পর্কে আর ভারসাম্য থাকে না। নষ্ট হয় সম্পর্কের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। খারাপ ব্যবহার, খারাপ মন্তব্য এসব বের হয়ে যেতে পারে মুখ ফসকে। যে কারণে নানা জটিলতা তৈরি হতে থাকে। তাই সম্পর্কে ভারসাম্য রাখতে চাইলে অকারণে টাকা ধার দেওয়া বন্ধ করুন।

মানসিক চাপ তৈরি করে

প্রত্যেকের উপার্জনই কষ্ট করে করা। সেই টাকা কাউকে দিয়ে দিলে ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে মানসিক চাপ। বিশেষ করে ধার দেওয়া টাকা সঠিক সময়ে ফেরত না পেলেই তৈরি হতে থাকে বাড়তি চাপ। টাকা ফেরত পেলেও অনেক সময় সম্পর্ক আগের মতো সুন্দর না-ও থাকতে পারে।

বাজে খরচের অভ্যাস তৈরি করে

আপনি যদি নিয়মিত তাকে টাকা ধার দিতে থাকেন তবে তার মধ্যে বাজে খরচের অভ্যাস তৈরি হবে। অকারণেই সে টাকা নষ্ট করতে শুরু করবে। প্রত্যেকেরই সঞ্চয়ের অভ্যাস থাকা জরুরি। তাই মায়ায় পড়ে টাকা দেওয়া বন্ধ করুন। দিনের পর দিন টাকা দিতে থাকলে খেই হারিয়ে ফেলা স্বাভাবিক। আবার টাকা ফেরত না দেওয়া নিয়েও তৈরি হতে পারে ভুল বোঝাবুঝি। 

এইচএন/এএ