বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. ওমর ফারুক তুহিন। তুহিনের সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে শুক্রবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) অফিসে এসেছিলেন মা খায়েরুন্নেসা। 

এ সময় তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমার ছেলের জন্য খুব টেনশনে আছি। কীভাবে এখন আমার ছেলেটা বাংলাদেশে আসবে এটা নিয়ে আমার টেনশন। আমার ছেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই। দেশে ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা চাই।’ এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ওমর ফারুক তুহিনের মা।

ছেলের সঙ্গে ভয়েস ম্যাসেজে কথা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাহাজে রকেট হামলার পর তুহিনসহ নাবিকদের উদ্ধার করে ইউক্রেনের বাংকারে রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে তুহিন ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছে। সেখানে ছেলে ভালো আছে, সুস্থ আছে বলে  জানিয়েছে। তবে পোল্যান্ড সীমান্তে কীভাবে যাবে বা কখন যাবে তা জানতে পারছি না।’

তুহিনের মা বলেন, ‘জাহাজে রকেট হামলার আগে ছেলের সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। কিন্তু ছেলে ব্যস্ত থাকায় দুইদিন ধরে ভয়েস ম্যাসেজে কথা হচ্ছে।’

ছেলেকে জাহাজ থেকে নামিয়ে বাংকারে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার, উদ্ধারকারী লোকজন, বিএসসি এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

ওমর ফারুক তুহিনের ছোট ভাই মো. ওমর শরীফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আজ সকালে ভাইয়ের সঙ্গে ভয়েস ম্যাসেজে কথা হয়েছে। কখন পোল্যান্ড যাবে জানতে চেয়েছি। ভাই জানিয়েছেন, নিরাপত্তার একটি বিষয় আছে। আমরা যাদের অধীন আছি তারাই সুযোগ -সুবিধা অনুযায়ী মুভ করতে বলবে। তখনই আমরা পোল্যান্ড সীমান্তের দিকে মুভ করব।’ 

ব্যক্তিগত জীবনে ওমর ফারুক তুহিন বিবাহিত ও এক ছেলে সন্তানের জনক বলে জানা গেছে। 

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে হামলা করেছে রাশিয়া। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে আটকে পড়ে বাংলার সমৃদ্ধি। ২ মার্চ রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রকেটটি রুশ হামলার শিকার হয়। এতে হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান (৩৩) নিহত হন।  ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর চ্যানেলে নোঙর করা জাহাজটিতে ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন।

রকেট হামলার কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র জীবিত ২৮ নাবিককে বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ইউক্রেনের একটি বাংকারে নেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে নিহত নাবিক হাদিসুর রহমানের লাশও রয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে নাবিকদের পোল্যান্ড সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর তাদের দেশে পাঠানো হবে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, সিরামিকের কাঁচামাল ‘ক্লে’ পরিবহনের জন্য জাহাজটি তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়। সেখান থেকে কার্গো নিয়ে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরপরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেয় শিপিং কর্পোরেশন। শেষ মুহূর্তে পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অলভিয়া বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

কেএম/এইচকে