রাজধানীর কল্যাণপুর নতুনবাজার বেলতলা বস্তির আগুনের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কিন্তু সেখানে এসে বাধার মুখে পড়েন তারা। কারণ, বস্তির ওই দিকটা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। পরে তারা বিপরীত দিক দিয়ে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। এছাড়া সেখানে পানি সাপ্লাইয়েরও সংকট ছিল। তা না হলে আরও আগে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যেত। 

রোববার (২০ মার্চ) রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস রাত ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায়। ৯টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রথমে সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে আসে। কিন্তু তারা ঢুকতে পারছিল না। কারণ, বাংলা কলেজের দিক দিয়ে তারা এসেছিল। বস্তির এদিকটা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। পরে পেছন দিয়ে নতুন বাজারের পোড়া বস্তি দিয়ে প্রবেশ করে তারা। কিন্তু সেখানে পানির সোর্স ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব পানি যেটুকু ছিল তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, পরে ওয়াসাকে খবর দিলে তারা পানির জোগান দেয়। নতুন করে ইউনিটও বাড়ানো হয়। সবমিলিয়ে ১৪টি ইউনিট কাজ করে।

তিনি বলেন, আগুন লাগায় সেখানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তাই পথ দেখা যাচ্ছিল না। শুধু আগুন দেখা যাচ্ছিল। পরে মই দিয়ে ঘরের ওপরে উঠে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

হতাহতের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, ‘হতাহতের কোনো খবর নেই। নিখোঁজের অভিযোগও নেই। আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। বস্তিবাসীর দাবি, ২০০টির মতো ঘর পুড়ে গেছে।’

রাজধানীর কল্যাণপুর নতুনবাজার বেলতলা বস্তিতে রাত ৯টার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

জেইউ/এসএসএইচ