বাংলাদেশ উন্নত তখনই হবে যখন একটি শিক্ষিত প্রজন্ম হবে বলে মন্তব্য করেছেন তেজগাঁও বিভাগের নবনিযুক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।

বুধবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় লালমাটিয়া মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।  

বক্তব্যের শুরুতে ডিসি মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের কাছে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের নানা সমস্যার চিত্র তার কাছে উপস্থাপন করেন। 

মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার এলাকার বাসিন্দা রবিউল আলম বলেন, রায়েরবাজার এলাকায় মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম রয়েছে। 

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট চালের আড়তের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মার্কেট বন্ধ হলে মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়।

এছাড়া জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসা, টাউন হল, কৃষি মার্কেট ও শ্যামলী এলাকায় ফুটপাতে দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা আদায়, রাজিয়া সুলতানা রোডে জুয়ার আসর বসানো, বিভিন্ন অলিতে গলিতে বখাটেদের আড্ডা, বিভিন্ন রোডে ছিনতাই, ঢাকা উদ্যান-তুরাগ হাউজিং এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই চক্র, বিভিন্ন স্কুলের সামনে ইভটিজিং এবং লালমাটিয়া এলাকায় কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে পার্কিং না থাকায় যানজট দেখা দেয় বলে জানান উপস্থিত বাসিন্দারা।  

এসব বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বলেন, মাদক এ এলাকার অন্যতম সমস্যা। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। মোহাম্মদপুর থানায় গত মাসে ১৮৭টি মামলা হয়েছে এর মধ্যে একশোর বেশি মাদকের মামলা রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা একটি তালিকা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। 

ছিনতাইকারীর বিষয়ে তিনি বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধের জন্য আমরা ১৬৫ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছি।ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি, এ বিষয়েও কাজ চলমান আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ,এম আজিমুল হক বলেন, আমাদের দেশ তখনই উন্নত হবে যখন একটি শিক্ষিত প্রজন্ম হবে। আপনার সন্তান কোথায় যায়, কী করে সেগুলো আপনাকেই খোঁজ রাখতে হবে। ১৯৭১ সালে যেরকম যুদ্ধ হয়েছিল তার চেয়েও বেশি গতিতে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। মাদকের কারণে আমাদের প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে কার সঙ্গে মিশছে সেগুলো আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। এটি এমন নয় কারো সঙ্গে মিশলেই সে মাদকাসক্ত হয়ে যাবে। মাদকাসক্ত হতে হলে তাকে কমপক্ষে এক মাস এ মাদক সেবন করতে হবে, তাহলেই সে মাদকাসক্ত হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি এবং গুরুত্ব দিয়েছি। যারা কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তাদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর। আমরা সচেষ্ট আছি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। 

এ সময় মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মুজিব পাটোয়ারী, এসি পেট্রোল মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ, পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান, পরিদর্শক (অপারেশন) তোফাজ্জল হোসেন, ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্টন, ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো সলিমুল্লাহ সলু, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো আসিফ আহমেদ, অধ্যক্ষ এম এ সত্তার, লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রমুখ। 

এসএএ/এসকেডি