ব্যাপক অনিয়ম এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে গাইবান্ধা-৫ আসনের নির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য পরবর্তী কার্যক্রম নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকেই সিসি ক্যামেরায় ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা। এতে গোপন কক্ষে অবৈধ ব্যক্তির অনুপ্রবেশ, কারচুপি স্বচক্ষে দেখতে পাওয়ায় একে একে ৫০টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করেন তারা। 

এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজে একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করেন। ভোটের অর্ধেক বেলায় মোট ৫১টি কেন্দ্র বন্ধ করা হয়। অবশেষে আড়াইটার দিকে পুরো নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয় ইসি।

রাতে ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসির উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমানের সই করায় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সিসি ক্যামেরায় সরাসরি তদারকিতে অধিকাংশ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার কারণে একাদশ জাতীয় সংসদের গাইবান্ধা-৫ শূন্য আসনের নির্বাচনের সব কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।

গাইবান্ধা-৫ আসনটি ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপ-নির্বাচনে সাঘাটা উপজেলায় ৮৮টি এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ৫৭টিসহ মোট ১৪৫টি কেন্দ্রে ৯৫২টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছিল।

সাঘাটা উপজেলার ১০টি ও ফুলছড়ি উপজেলার সাতটিসহ মোট ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে মিলে আসনটিতে ভোটার রয়েছেন তিন লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৩ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭০ হাজার ১৬০।

এই আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া টানা নয় মাস ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে গত ২২ জুলাই দিনগত রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ কারণে তার আসনটি শূন্য হয়।

এসআর/আরএইচ