প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি/ ছবি- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নতুন করে জাপান সফরের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি। আগামী এপ্রিলে এ সফর হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। 

বুধবার (১১ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাপানের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতের বিষয়ে পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম. নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ‘রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আগামী মার্চ বা এপ্রিলে জাপান সফরের প্রস্তাব দেন।’

আরও পড়ুন >> প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর পিছিয়েছে

শেখ হাসিনা ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণে সহযোগিতার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া আশা প্রকাশ করেন যে, মেট্রোরেলের অন্যান্য লাইন নির্মাণে জাপান তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, মেট্রো রেল ব্যাপক জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করছে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের পাশাপাশি কক্সবাজারের সাবরাং পর্যটন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের সমুদ্র সৈকত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য জাপানের প্রতি আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, সাবরাং পর্যটন স্পটটি শুধুমাত্র বিদেশি পর্যটকদের জন্য উৎসর্গীকৃত।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের আশপাশে থাকা এ অঞ্চলের ৩৫০ কোটি মানুষের বিশাল বাজারের সুবিধা নিতে পারে।

তিনি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এ টার্মিনালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একটি জাপানি কোম্পানিকে দেওয়া হবে।  

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বন্ধু। জাপান তার ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছেও প্রিয়।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে নিয়ে ১৯৭৩ সালে জাপান সফর করেছিলেন।

জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সম্পর্কের উল্লেখ করে জাপানের রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্ক হবে কৌশলগত সম্পর্ক।

তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার আকাঙ্খা বাস্তবায়নে জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে জাপান-বাংলাদেশ কাঠামোর কার্যক্রম জোরদার করতে কাজ করবেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি দুটি দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আনতে কাজ করবেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় যে, রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবে।

তিনি আশ্বাস দেন যে, জাপান দ্বিপাক্ষিক এবং আসিয়ান ফোরামের মাধ্যমে বিষয়টিতে গুরুত্ব আরোপ করবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ কক্সবাজার ও ভাসানচরে মানবিক কার্যক্রম জোরদার করবে এবং এ লক্ষ্যে জাইকা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু জাপানি এনজিওকে এসব ক্ষেত্রে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর এবং জাপানের নারুতো শহরের মধ্যে সহায়তা জোরদার করার জন্য একটি চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরের শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের কথা ছিল। তবে আনুষ্ঠানিক দিন-তারিখ তখন ঠিক হয়নি। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় জাপানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর হচ্ছে না।

সূত্র: বাসস

জেডএস/জেএস