নিম্নতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা ঘোষণাসহ ৩টি গ্রেডে নির্ধারণ করা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করাসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ।

সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে— গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের মজুরি বোর্ডের সদস্য করা, প্রতি বছর ১০ শতাংশ বাৎসরিক মজুরি বৃদ্ধি করা, নিম্নতম মজুরি ঘোষণায় বিলম্ব হলে মূল বেসিকের ৪০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়া এবং ঘোষণায় সময়ের মধ্যে সব গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা।

মানববন্ধনে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের আহ্বায়ক ও মুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, গার্মেন্টসের উৎপাদন ও রপ্তানি দুটোই বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু শিল্পের উন্নয়নের কোনো ফলই গার্মেন্টস শ্রমিকরা পাচ্ছেন না। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে জীবনযাপন করা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাদ্য, নিত্যপন্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ব্যয়, বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ভাড়া ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অবিলম্বে নিম্নতম মঞ্জুরি বোর্ড গঠনের দাবি, এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন ও জোটের পক্ষ থেকেও মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি করে আসছে।

তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ১৪১ ধারা অনুযায়ী জীবনযাপন ব্যয়, জীবনযাপনের মান, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হবে। ৭০ শতাংশ বেসিক মজুরি নির্ধারণ করে, নিম্নতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা ঘোষণাসহ ৩টি গ্রেডে নির্ধারণ করার দাবি জানাচ্ছি।

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের সদস্য সচিব ও রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কস ফেডারেশনের সভাপতি দাগী ইয়াসমিন বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী সেই সেক্টরের জন্য মজুরি কমিশন গঠিত হবে। সেই সেক্টরের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের প্রতিনিধিকে মজুরি বোর্ডের সদস্য করার জন্য আমরা অনুরোধ করছি। বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরির সাথে জীবনমানের খরচ এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তা দিয়ে কোনোভাবেই শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহ হয় না।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা দেশের মূল অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি। অথচ তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নাই। তাদের জন্য নেই কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা। তাই আমরা সব গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জাহানারা বেগম, বাংলাদেশী গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম আক্তার, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নাহিদুল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম আকন প্রমুখ।

এমএইচএন/এফকে