গত তিন মাসে ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের আলোচনার প্রধান তিনটি বিষয় হচ্ছে, টেকসই ও স্বাস্থ্যকর খাবার, পরিবেশ বান্ধব জীবনযাপন ও বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশে ফেসবুকের জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক পিআর ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বান্ধব কর্মসূচি নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

বেঞ্চমার্ক জানায়, সম্প্রতি ইয়েল প্রোগ্রাম অন ক্লাইমেট কমিউনিকেশনের সঙ্গে ফেসবুকের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের ৩০টি দেশের তিন-চতুর্থাংশ মানুষ বিশ্বাস করে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। শুধু তাই নয় প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই প্যারিস জলবায়ু চুক্তি সমর্থন করেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন এবং নানা ধরনের প্রতিরক্ষামূলক কাজেও অংশ নিচ্ছেন। পরিবেশবিষয়ক ৬ হাজার ফেসবুক গ্রুপে অন্তত ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি সদস্য রয়েছেন।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বে মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এবারের বিশ্ব ধরিত্রী দিবসে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ফেসবুক।

এশিয়া প্যাসিফিকের ইমার্জিং মার্কেটের ফেসবুক পরিচালক জোরডি ফোরনিস বলেন, বাংলাদেশিরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করছেন এবং আমাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারছেন, এতে আমি অত্যন্ত অনুপ্রাণিত।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের তাগিদটা আমরা বুঝি। এই সংকট মোকাবিলায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বলা দরকার, আমাদের দাফতারিক কার্যক্রম এখন শতভাগ নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর। শুধু তাই নয়, ফেসবুক এখন বিশ্ব বাজারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম বৃহৎ করপোরেট ক্রেতা।

এ পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে মানুষের অবস্থান নেওয়ার কাজটা সহজ করতে ‘গ্রিনপ্রিন্ট কনজ্যুমার গাইড’ এবং হোয়াটসঅ্যাপের জন্য স্টিকার প্যাক ‘স্ট্যান্ড আপ ফর আর্থ’ নিয়ে আসছে ফেসবুক। এই স্টিকার প্যাকে বেশ কিছু পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে এবং বেশ কিছু কাজে উৎসাহিত করা হয়েছ। যেমন রিসাইক্লিং এবং বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার হ্রাস। এ ছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে বেশ কিছু ওয়ালপেপার ইতিমধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া যাচ্ছে।

‘দ্য ফেসবুক গ্রিনপ্রিন্ট’ এক ধরনের ডিজিটাল গাইড। এতে ১৫টি সহজ ধাপ আছে, যার সাহায্যে মানুষ পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে। যেমন, স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশগত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠনে দান করা, বা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নীতিশুদ্ধ কেনাকাটা করা।

২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টায় ফেসবুক অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এই বিষয়ে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কাজ করে যাবে।

একে/এসকেডি