সচিবালয়ে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গত ২৪ মে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৮ জুন) কমিটির আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন অধিশাখা) মো. সাইফুল্লাহিল আজম এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ‘আমরা দুদিন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলাম। দুই দিন পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমাদের মুখপাত্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুর রহমান বলতে পারবেন।’

মুহিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২৪ তারিখে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সচিব বা মন্ত্রী বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি কিছু বলতে পারব না।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার দফতরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘স্যার সম্মেলন কক্ষে মিটিংয়ে আছেন।’

অফিস করছেন পলি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রোজিনা ইসলামকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা মাকসুদা সুলতানা পলি অফিস করছেন। মঙ্গলবারও তাকে দফতরে দেখা গেছে।

তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব মুহিবুর রহমান পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘গলা চেপে ধরা কি সত্য?’

তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আর্গুমেন্টের কিছু নেই। এটি আদালতে আছে, বিচারাধীন বিষয়।’

আপনারা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে কিছু থাকলেও থাকতে পারে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় আনা হয়। রাতেই তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস আইনে মামলা করা হয়।

পরদিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে রোজিনাকে আদালতে নেওয়া হয়। বেলা ১১টার একটু পরে সিএমএম আদালতে তোলা হয় তাকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২৩ মে জামিন পান রোজিনা।

এসএইচআর/এমএইচএস/জেএস